প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও ব্যবসায়িক অংশীদারত্ব বাড়াতে দুই দেশের বৈঠক
তথ্যপ্রযুক্তি, সাইবার নিরাপত্তা ও ফিনটেক খাতে বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করতে প্রযুক্তি ও বিনিয়োগে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত লিথুয়ানিয়ার অনাবাসিক রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েনের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে দুই দেশের বিদ্যমান বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বিনিয়োগের সম্ভাবনা এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন খাতে অংশীদারত্বের সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশের আইসিটি খাত নিয়ে আগ্রহ লিথুয়ানিয়ার
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ ও লিথুয়ানিয়ার মধ্যে বর্তমানে বাণিজ্যের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম হলেও সহযোগিতা বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের দ্রুত সম্প্রসারিত আইসিটি খাত, দক্ষ তরুণ জনশক্তি এবং ফ্রিল্যান্সারদের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে লিথুয়ানিয়ার প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো দক্ষিণ এশিয়ার বাজারে তাদের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে পারে।
বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ প্রত্যাহার ও মুনাফা নিজ দেশে নেওয়ার প্রয়োজনীয় সুযোগ রাখা হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের জন্য দেশে একটি স্থিতিশীল ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ রয়েছে।
সাইবার নিরাপত্তায় সহযোগিতার প্রস্তাব
লিথুয়ানিয়ার রাষ্ট্রদূত ডায়ানা মিকেভিচিয়েন বলেন, তার দেশ বিশ্বমানের লেজার প্রযুক্তি, গভটেক ও ফিনটেক খাতে উল্লেখযোগ্য সক্ষমতা অর্জন করেছে।
বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তর, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে লিথুয়ানিয়া অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত বলেন, দুই দেশের সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কার্যকর অংশীদারত্ব গড়ে উঠলে প্রযুক্তি, উদ্ভাবন ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।
ব্যবসায়ী পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব
বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া, ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তা পর্যায়ে যোগাযোগ বাড়ানো এবং প্রযুক্তিনির্ভর খাতে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
আলোচনায় বিশেষ করে আইসিটি, সাইবার নিরাপত্তা, ফিনটেক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি খাতকে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়।



