নাটোরে শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে আট বছর বয়সি এক শিশুর ডান হাতের আঙুল কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগ উঠেছে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে নাটোর শহরের বড় হরিশপুর পশ্চিম চেয়াম্যানপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। পরে রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন।
আহত শিশুকে প্রথমে নাটোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান জানান, ডান হাতের একটি আঙুলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অভিযুক্ত কনস্টেবল নাটোরে কর্মরত। স্ত্রী ও চার বছর বয়সি মেয়েকে নিয়ে তিনি ভুক্তভোগী শিশুটির বাবার বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন।
ঘটনার আগের রাতে ওই বাড়িতে পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। সেখানে কনস্টেবলের চার বছর বয়সি মেয়ের সঙ্গে শিশুটির ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পরিবারের সদস্যরা মিলে মীমাংসা করেন।
পরদিন দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে ওই কনস্টেবল শিশুটিকে জোর করে নিজের বাসায় নিয়ে যান বলে অভিযোগ। কিছুক্ষণ পর শিশুটি ডান হাতের বিচ্ছিন্ন আঙুল নিয়ে কান্না করতে করতে নিজের বাড়িতে ফিরে আসে। পরে মাকে সে জানায়, খাটের পায়ার ওপর হাত রেখে তরকারি কাটার হাঁসুয়া দিয়ে তার আঙুল কেটে দেওয়া হয়েছে।
শিশুটির বাবা একটি ব্যাংকে চাকরি করেন। ঘটনার পর তার স্ত্রী প্রতিবেশীদের বিষয়টি জানান এবং দ্রুত শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়।
এদিকে ঘটনার পর ওই কনস্টেবল পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিক অভিযোগ করেন যে, ভুক্তভোগী শিশু তার মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে। অভিযোগের পর তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসাটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পায়। পরে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ দেখতে পায়। পুলিশের দাবি, ঘরের এক পাশে বিচ্ছিন্ন আঙুলের একটি অংশও পাওয়া যায়।
শিশুটির বাবা বলেন, একই বাড়িতে বসবাসের কারণে দুই শিশুর মধ্যে চলাফেরা ছিল। পিকনিকের সময় তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হলেও বিষয়টি গুরুতর কিছু ছিল না। কিন্তু তার ছেলেকে ঘরে নিয়ে গিয়ে আটকে রেখে এভাবে অঙ্গহানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন শিশুটির বাবা।
এদিকে কনস্টেবলের মেয়েকে নিপীড়নের অভিযোগে কোনো মামলা হয়েছে কি না, জানতে চাইলে সদর থানার ওসি জানান, মেয়েটির বাবা-মা লিখিত কোনো অভিযোগ দেননি। তারা শুধু মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছিলেন। তবে শিশুদের কোনো কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিক্রিয়ার বিষয়টিও পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে বলে জানান তিনি।



