ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে ষাটোর্ধ্ব এক ব্যক্তি ও তার তিন ছেলেকে ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই সীমান্তের ওপারে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মানবাধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন ‘মাসুম’ গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) এ অভিযোগ প্রকাশ্যে আনে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৩ আগস্ট মুর্শিদাবাদের সুতি থানার উমরাপুর পঞ্চায়েতের বালিয়াঘাটি গ্রাম থেকে ৬০ বছর বয়সি ডাবলু শেখ ও তার তিন ছেলে কায়েম শেখ (২৯), রাজাউল শেখ (২০) এবং ১৬ বছর বয়সি আসমাউল শেখকে আটক করা হয়।
পরিবারের সদস্য ও মানবাধিকারকর্মীদের দাবি, ডাবলু শেখ ও তার ছেলেদের ভারতীয় নাগরিকত্বের পক্ষে একাধিক বৈধ নথি রয়েছে। তাদের ভাষ্য, ২০২৬ সালের ভোটার তালিকায় ডাবলু শেখের নাম রয়েছে এবং চলতি বছর তিনি ভোটও দিয়েছেন। তার বাবা শেখ সামজানির নামও ১৯৬৬ সালের ভারতের নির্বাচনী নথিতে পাওয়া যায় বলে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া ডাবলু শেখের পরিবারের কাছে হালনাগাদ আধার কার্ড ও রেশন কার্ডসহ বিভিন্ন ভারতীয় পরিচয়পত্র রয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো।
‘মাসুম’ ও ‘প্যাকটি’র মতো মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রশ্ন, এত নথিপত্র থাকার পরও কীভাবে ওই পরিবারের চার সদস্যের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো নির্দিষ্ট বিচারিক বা আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই সীমান্তের ওপারে পাঠানো হলো।
সংগঠনগুলোর বক্তব্য, কারও ভাষা, আর্থিক সক্ষমতা কিংবা ধর্মীয় পরিচয়কে ভিত্তি করে তাকে বিদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা যায় না। নাগরিকত্ব নিয়ে কোনো সংশয় তৈরি হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়ে আইন অনুযায়ী বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন।
ঘটনার নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্তের দাবি জানিয়ে রাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলো। একই সঙ্গে সুতি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং জঙ্গিপুরের পুলিশ সুপারের ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে তারা।
চারজনকে সত্যিই বাংলাদেশে পাঠানো হয়ে থাকলে তাদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে পরিবারের সদস্যদের অবহিত করা এবং তাদের দ্রুত ভারতে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে।
তবে প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ, সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কিংবা অন্য কোনো সরকারি কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে ওই চারজনকে কী প্রক্রিয়ায় আটক করা হয়েছিল এবং কীভাবে তাদের সীমান্তের ওপারে পাঠানো হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে সরকারি নথি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের অপেক্ষা রয়েছে।



