টানা দুই দিনের ভারি বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে শহরটিতে বন্যা-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘরের বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ব্যাংককের খালগুলোর আশপাশে বসবাসকারীদের ঘরের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল দ্রুত উঁচু স্থানে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিতে শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা কার্যত চাপের মুখে পড়ায় প্রধান সড়কগুলোর যান চলাচলও ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের এই সময়ে থাইল্যান্ডে বজ্রসহ বৃষ্টি স্বাভাবিক হলেও সাম্প্রতিক সময়ে অস্বাভাবিক মাত্রার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে ব্যাংককের ড্রেনেজ ব্যবস্থা পর্যাপ্তভাবে পানি সরাতে পারছে না। যানজটের জন্য পরিচিত শহরটির গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রোববার পর্যন্ত বৃষ্টি চলতে পারে। ফলে শহরের খালগুলোর পানি আরও বেড়ে গিয়ে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
মধ্য ব্যাংককের উত্তরে একটি খালের পাশে বসবাসকারী ৬৭ বছর বয়সি সোমকিদ ফিউক-নগাম বলেন, পানি ক্রমাগত বাড়ছে। বাইরে বের হওয়া এখন প্রায় অসম্ভব। তার এলাকায় পানি কোমরসমান উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তিনি জানান, কোথাও যেতে না পারায় টানা দুই দিন ধরে তার দোকান বন্ধ রয়েছে। ২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে ফিউক-নগাম বলেন, এবারের ব্যাংককের পানির উচ্চতা তার কাছে সেই সময়ের চেয়েও বেশি ভয়াবহ মনে হচ্ছে।
২০১১ সালের চরম আবহাওয়াজনিত বন্যা প্রায় তিন মাস স্থায়ী হয়েছিল। ওই দুর্যোগে পুরো থাইল্যান্ডে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। তবে এবারের বন্যায় ব্যাংককে এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।
থাই আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, চলতি সপ্তাহজুড়ে আরও ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের অতিবৃষ্টির জন্য দায়ী নিম্নচাপটি ধীরে ধীরে মধ্য থাইল্যান্ডের দিকে সরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানিয়েছেন, শহরের পূর্বাঞ্চল বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তিনি বলেন, বৃষ্টি অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে এবং পাম্পের মাধ্যমে পানি সরানোর কাজ চলছে। তবে খালগুলো ইতোমধ্যে পানিতে পূর্ণ হয়ে যাওয়ায় সেগুলোর আশপাশে বসবাসকারী মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।



