ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমার শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) এর মধ্যে পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। ভোটার তালিকা সংশোধন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই এমন ঘোষণা দিল দলটি।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন মুম্বাই থেকে বিক্ষোভ শুরু হবে। পরে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভারতের বিভিন্ন এলাকায় কংগ্রেসের নেতাকর্মীরা জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেন। বিরোধী দলগুলোর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) সুবিধা পেতে পারে। তবে এসব অভিযোগ নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি প্রত্যাখ্যান করেছে।
কেন ২ অক্টোবর?
গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সিজেপি জ্ঞানেশ কুমারকে পদত্যাগের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা দেয়। দলটি জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে দেশব্যাপী আন্দোলন শুরু করা হবে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে আন্দোলন শুরু করে তা ভারতের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
সিজেপির অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন পদক্ষেপে ভোটারদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে তারা প্রশ্ন তুলেছে। দলটির দাবি, এসব পরিবর্তন বিজেপিকে সুবিধা দিতে পারে। তবে এই অভিযোগগুলোর সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়নি।
এদিকে, ভারতের নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, একাধিক সদস্যের সমন্বয়ে পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কমিশনের দাবি, তাদের নেওয়া সব পদক্ষেপ আইনসম্মত।
সম্প্রতি দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর এক প্রতিবেদনে নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরে ভোটার তালিকা ব্যবস্থাপনা নিয়ে মতপার্থক্যের কথা তুলে ধরা হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই নির্বাচন কমিশনার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে একাধিকবার প্রশ্ন বা আপত্তি জানিয়েছিলেন।
কংগ্রেসসহ ভারতের অন্যান্য বিরোধী দলও নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় অনিয়ম ও বিজেপিকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। তবে নির্বাচন কমিশন ও ক্ষমতাসীন বিজেপি উভয়েই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।



