ভারতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, পরীক্ষা ব্যবস্থায় অনিয়ম এবং শিক্ষা খাতে সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন আরও জোরালো হয়েছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থার আমূল সংস্কারের দাবিতে রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছে তরুণদের সংগঠন ককরোচ জনতা পার্টি। সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া হবে।
সংঘর্ষে উত্তপ্ত রাজধানী
পার্লামেন্ট অভিমুখে বিক্ষোভ মিছিল ঘিরে নয়াদিল্লির বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করা হয়েছে।
সংঘর্ষে অন্তত ১৮০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দিল্লি পুলিশের দাবি, আহতদের মধ্যে ১১৮ জন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীসহ বিরোধী দলের কয়েকজন আইনপ্রণেতা বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করতে গেলে পুলিশ তাদের আটক করে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী সোনা বিষ্ট বলেন, ‘সরকার যদি মনে করে দমন-পীড়নের মাধ্যমে জেন-জি প্রজন্মের কণ্ঠরোধ করা যাবে, তাহলে তারা ভুল করছে। আমাদের ভবিষ্যতের প্রশ্নে আমরা কোনো আপস করব না।’
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলো
বিক্ষোভকারীদের প্রধান দাবিগুলো হলো—
- প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত অনিয়মের দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
- সর্বভারতীয় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা ব্যবস্থার কাঠামোগত সংস্কার এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
- পরীক্ষা স্থগিত ও অনিয়মের কারণে মানসিক চাপে আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য ক্ষতিপূরণ ও সহায়তা।
- ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস ও অনিয়ম রোধে কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ।
ককরোচ জনতা পার্টির যাত্রা
এই প্ল্যাটফর্মটির সূচনা হয় ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে। এক শুনানিতে তিনি বেকার তরুণ ও রাজনৈতিক কর্মীদের উদ্দেশে ‘তেলাপোকা’ ও ‘সমাজের পরজীবী’ বলে মন্তব্য করেছেন—এমন অভিযোগ ঘিরে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
এরপর যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এবং সাবেক আম আদমি পার্টির কৌশলবিদ অভিজিৎ দীপকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠন করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই সংগঠনটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী, ইনস্টাগ্রামে তাদের অনুসারীর সংখ্যা কয়েক কোটিতে পৌঁছেছে। পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকসহ বিভিন্ন বিশিষ্ট ব্যক্তি আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েছেন।
বর্তমান পরিস্থিতি
বর্তমানে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনকারীদের অবস্থান কর্মসূচি অব্যাহত রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভে পুলিশের কঠোর অবস্থানের সমালোচনা করেছে।
ককরোচ জনতা পার্টির নেতারা জানিয়েছেন, মৌখিক আশ্বাসে তারা আন্দোলন প্রত্যাহার করবেন না। তাদের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার এবং অন্যান্য দাবির বিষয়ে সরকারের দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।



