tanaka
প্রচ্ছদখেলাফাইনালে যেতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৫০ রান

ফাইনালে যেতে বাংলাদেশের লক্ষ্য ১৫০ রান

টি-টোয়েন্টিতে ভারতের বিপক্ষে জয় পাওয়া বাংলাদেশের জন্য বরাবরই কঠিন চ্যালেঞ্জ। তবে বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে টস জিতে আগে ফিল্ডিং নিয়ে শুরুটা দারুণ করার সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ নারী দল। কিন্তু মাঝপথে একের পর এক ক্যাচ ও রানআউটের সুযোগ হাতছাড়া করায় সেই সুযোগ পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির দল।

শেষ পর্যন্ত ভারতকে ১৪৯ রানে থামিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ফাইনালে জায়গা করে নিতে হলে ২০ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ১৫০ রান।

ম্যাচের শুরুতে টস জিতে ভারতকে ব্যাটিংয়ে পাঠান বাংলাদেশ অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি। ভারতের বিপক্ষে আগের ২৪ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বাংলাদেশের জয় ছিল মাত্র তিনটি। এর মধ্যে দুটিতেই ভারতকে ১১০ রানের নিচে আটকে রেখেছিল টাইগ্রেসরা। ফলে এদিনও শুরু থেকেই ভারতীয় ব্যাটারদের চাপে রাখার প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশের।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই সেই সুযোগ আসে। সুলতানা খাতুনের বলে লং অনে সহজ ক্যাচ দিয়েছিলেন ভারতের ওপেনার শেফালি ভার্মা। কিন্তু ক্যাচটি তালুবন্দী করতে পারেননি ফাহিমা খাতুন। জীবন পাওয়া শেফালিকে অবশ্য বেশিক্ষণ স্বস্তিতে থাকতে দেননি স্বর্ণা আক্তার। একই ওভারে দুর্দান্ত এক ক্যাচে ভারতের আরেক ওপেনার স্মৃতি মান্দানাকে সাজঘরের পথ দেখান তিনি।

তবে এরপরই শেফালিকে ঘিরে শুরু হয় বাংলাদেশের ফিল্ডিং ব্যর্থতার গল্প। তৃতীয় ওভারে মারুফা আক্তারের বলে মিড অনে নিচু হয়ে আসা ক্যাচ মিস করেন নাহিদা আক্তার। ফলে পরপর দুইবার জীবন পেয়ে আরও আগ্রাসী হয়ে ওঠেন শেফালি।

প্রতিকা রাওয়ের সঙ্গে জুটি গড়ে পাওয়ার প্লেতেই দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। প্রথম ছয় ওভার শেষে ১ উইকেট হারিয়ে ভারতের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪৫ রান। এ সময় শেফালি ও প্রতিকা—দুজনের ব্যাট থেকেই আসে ছক্কা।

নবম ওভারের তৃতীয় বলে অবশ্য প্রতিকার উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। রাবেয়া খানের বলে এগিয়ে এসে খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন তিনি। উইকেটরক্ষক দিলারা আক্তার প্রথম চেষ্টায় বলটি ফসকে ফেললেও দ্বিতীয় চেষ্টায় ক্যাচটি ধরে ফেলেন। এতে ৪৪ বলে গড়ে ওঠা ৫০ রানের জুটি ভাঙে। ভারতের স্কোর তখন ২ উইকেটে ৫৯ রান।

এরপরও শেফালির ব্যাট থামানো যাচ্ছিল না। ১৩ ওভার ২ বলে তিনি পূর্ণ করেন ফিফটি। এর কিছুক্ষণ পর আবারও রানআউটের সুযোগ পায় বাংলাদেশ, কিন্তু সেটিও কাজে লাগাতে পারেনি ফিল্ডাররা।

তবে শেষ পর্যন্ত ফিফটির পর আর বেশি দূর এগোতে পারেননি শেফালি। সুলতানা খাতুনের বলে বদলি ফিল্ডার ফারজানা ইয়াসমিনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। এদিন তিনবার ক্যাচ এবং একবার রানআউটের সুযোগ থেকে বেঁচে যাওয়া শেফালির উইকেটটি বাংলাদেশের জন্য স্বস্তি হয়ে আসে।

ক্যাচ মিস ও ফিল্ডিংয়ে একাধিক ভুল না হলে ভারতের রান আরও কমিয়ে রাখা সম্ভব ছিল। সুযোগ হাতছাড়া করার সেই খেসারত দিয়েই শেষ পর্যন্ত ১৪৯ রানে থামাতে হয়েছে ভারতকে।

এখন ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য ১৫০ রান। ব্যাটাররা এই লক্ষ্য পেরোতে পারলেই মিলবে কাঙ্ক্ষিত ফাইনালের ছাড়পত্র।