tanaka

পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণ পরিশোধ ২০৪ কোটি ডলার

বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পাঁচ মাসে বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ মার্কিন ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। চলতি...
প্রচ্ছদজাতীয়তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন

তারুণ্যের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা হবে: মাহ্দী আমিন

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন বলেছেন, তারুণ্যের ক্ষমতায়নই বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। তরুণদের আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে দক্ষ, যোগ্য এবং কর্মসংস্থানমুখী জনশক্তি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য।

বুধবার (২২ জুলাই) রাজধানীর মিরপুরে আন্ডারপ্রিভিলেজড চিলড্রেনস এডুকেশনাল প্রোগ্রামস (ইউসেপ) বাংলাদেশ আয়োজিত ‘বিশ্ব যুব দক্ষতা দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চান, যেখানে তরুণরা শুধু শিক্ষিত নয়, দক্ষ ও কর্মসংস্থানের জন্য প্রস্তুত জনশক্তি হিসেবে গড়ে উঠবে। পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ এবং সামাজিক শিষ্টাচারের বিকাশ ঘটিয়ে একটি মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থাকে শিল্পখাতের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ইন্ডাস্ট্রি-অ্যাকাডেমিয়া সহযোগিতা আরও জোরদার করা হবে। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে যাতে সহজেই কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারে, সে লক্ষ্যেই শিক্ষা ব্যবস্থায় সংস্কার আনা হচ্ছে।

শ্রমিকবান্ধব সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুই ঈদেই শ্রমিকদের বেতন, বোনাস ও অন্যান্য পাওনা নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে শ্রম অসন্তোষের কোনো বড় ঘটনা ঘটেনি। তিনি বলেন, শ্রমিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি আরও বলেন, দেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ চারটি প্রধান ক্ষেত্রে তৈরি হতে পারে—বেসরকারি খাত, সরকারি খাত, বিদেশে কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা সৃষ্টি। এসব ক্ষেত্রকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে নিতে হবে। সবাইকে চিকিৎসক বা প্রকৌশলী হওয়ার পেছনে না ছুটে নিজের আগ্রহ, দক্ষতা এবং দেশের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষা ও পেশা বেছে নেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি।

মাহ্দী আমিন বলেন, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে ট্রেডভিত্তিক এবং স্বল্পমেয়াদি কারিগরি প্রশিক্ষণের পরিধি বাড়ানো হবে। তিন মাস, ছয় মাসসহ বিভিন্ন মেয়াদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণদের বাস্তব কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রস্তুত করা এবং উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বিদেশে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, টেকনিক্যাল অ্যান্ড ভোকেশনাল এডুকেশন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, এসএসসি ও এইচএসসি ভোকেশনাল শিক্ষা, টিটিসিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে ২৩টি মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের কারিকুলাম, প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, সার্টিফিকেশন এবং মানের মধ্যে সমন্বয় প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকার এ বিষয়ে কাজ করছে, যাতে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এনএসডিএ)-এর সনদ আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য হয় এবং সব প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অভিন্ন মান নিশ্চিত করা যায়।

ইউসেপ বাংলাদেশের সাফল্যের প্রশংসা করে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ৮০ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত উৎসাহব্যঞ্জক। এই সফল মডেল দেশের অন্যান্য কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দিতে হবে, যাতে প্রশিক্ষণ শেষে শিক্ষার্থীরা বাস্তব কর্মসংস্থানের সুযোগ পায়।

তিনি বলেন, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। রাজধানীর শিক্ষার্থীরা যে মানের শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ পায়, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও যেন একই সুযোগ পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থাকলেও কোনো শিক্ষার্থী যেন পিছিয়ে না থাকে, সে লক্ষ্যেই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

মাহ্দী আমিন বলেন, সরকার এমন একটি সমন্বিত দক্ষতা উন্নয়ন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে বৈষম্য কমে আসবে এবং সব প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হবে। এ কাজে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ভূমিকা হবে নীতিগত সহায়তা দেওয়া, আর দক্ষতা উন্নয়ন ও উদ্ভাবনের মূল চালিকাশক্তি হবে বেসরকারি খাত।

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সরকারি নীতিমালা বাস্তবায়ন করা হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকার দক্ষতা উন্নয়ন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করবে।