tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদশিক্ষাঙ্গনযৌন নিপীড়ন ও গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগ থাকা শিক্ষক জাবিপ্রবির নতুন ভিসি

যৌন নিপীড়ন ও গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগ থাকা শিক্ষক জাবিপ্রবির নতুন ভিসি

জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমির হোসেন ভূঁইয়া। তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও গবেষণা জালিয়াতির অভিযোগে আগে থেকেই তদন্ত চলমান থাকায় এই নিয়োগ ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ‘জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১৭’-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী তাকে চার বছরের জন্য উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। যোগদানের তারিখ থেকে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে তাকে সার্বক্ষণিক ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে বলেও উল্লেখ করা হয়।

ড. আমির হোসেন ভূঁইয়া বর্তমানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক। সম্প্রতি তিনি জাবি জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের ক্রীড়া ও সংস্কৃতি সম্পাদক পদেও নির্বাচিত হন।

তবে তার এই নিয়োগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ৪৭তম আবর্তনের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সভাপতির কাছে তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে যৌন হয়রানি, বডি শেমিং, মানসিক নির্যাতন, অশালীন মন্তব্য, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে কটূক্তি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ক্লাসে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আলোচনা করতেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নজরদারি চালাতেন এবং নারী শিক্ষার্থীদের নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করতেন। এছাড়া ফলাফলে বৈষম্য, গবেষণায় নিরুৎসাহিত করা এবং সহকর্মীদের নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগও ওঠে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন আইবিএর পরিচালক অধ্যাপক ড. আইরীন আক্তার এবং সদস্য সচিব ছিলেন প্রাণ রসায়ন ও অনুপ্রাণ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. তাসলিমা নাহার। তদন্ত কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হলেও দীর্ঘ সময় তদন্ত কার্যক্রম ঝুলে ছিল।

পরে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. আইরীন আক্তার জানান, তদন্ত শেষে প্রতিবেদন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। এখন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।

এদিকে গবেষণাপত্রে জালিয়াতির অভিযোগেও আগে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছিলেন অধ্যাপক আমির হোসেন ভূঁইয়া। ২০১৯ সালের ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় তার বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

জানা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ জলাশয়ে সমুদ্রের লবণাক্ত পানি প্রবেশের প্রভাব নিয়ে ২০১২ সালে পরমাণু শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউট একটি গবেষণা পরিচালনা করে। পরে ২০১৭ সালে সেই গবেষণার তথ্য-উপাত্ত ব্যবহার করে নতুন একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করা হয়। ওই প্রবন্ধে সহ-গবেষক হিসেবে আমির হোসেন ভূঁইয়া, এসএম দিদারুল ইসলাম, তানজিনা রুমী এবং গাউসুল আজমের নাম ছিল।

এ ঘটনায় পরমাণু শক্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের মুখ্য ভূতত্ত্ববিদ তপন কুমার মজুমদার বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের পর চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে জালিয়াতির সত্যতা পাওয়ায় সিন্ডিকেট তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে এবং অধিকতর তদন্তের জন্য স্ট্রাকচারাল কমিটি গঠন করা হয়।

অধ্যাপক ড. আমির হোসেন ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে গঠিত স্ট্রাকচারাল কমিটির তদন্ত চলমান থাকা অবস্থায় তাকে অনাপত্তিপত্র (এনওসি) দেওয়া হবে কি না— এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, অভিযোগটি এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। স্ট্রাকচারাল কমিটি প্রতিবেদন জমা দিলেও বিষয়টি নিয়ে সিন্ডিকেটের আরও একটি সভা প্রয়োজন। আইন উপদেষ্টার পরামর্শ নিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।