বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ব্যবসা-বাণিজ্য দিন দিন সম্প্রসারিত হচ্ছে। এর ফলে বৈদেশিক মুদ্রার লেনদেনও বাড়ছে। বাজারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার প্রতিনিয়ত ওঠানামা করছে।
সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ডলারের দাম কয়েক ধাপে বাড়ানো এবং টাকার মান সমন্বয় করা হয়। এর প্রভাবে গত মাসে দেশের আন্তঃব্যাংক বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ডলারের দাম গড়ে প্রায় ১ টাকা বেড়েছিল। তবে বর্তমানে ডলারের দাম আবার আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ও বাণিজ্যিক ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, গত মাসের শুরুতে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। পরে তা বেড়ে সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় ওঠে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের দাম কমে আগের অবস্থানে ফিরে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আজ মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট ২০২৬) বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রার সর্বনিম্ন বিনিময় হার নিচে দেওয়া হলো—
মুদ্রার নাম — বাংলাদেশি টাকা
- ইউএস ডলার: ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা
- ইউরো: ১৪১ টাকা ৪৬ পয়সা
- পাউন্ড: ১৬৫ টাকা ৪৫ পয়সা
- কানাডিয়ান ডলার: ৮৮ টাকা ০৩ পয়সা
- অস্ট্রেলিয়ান ডলার: ৮৬ টাকা ৭৭ পয়সা
- চীনা ইয়েন: ১৮ টাকা ১১ পয়সা
- সিঙ্গাপুর ডলার: ৯৫ টাকা ৫৮ পয়সা
- ভারতীয় রুপি: ১ টাকা ২৭ পয়সা
- মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত: ৩০ টাকা ২৭ পয়সা
- সৌদি রিয়াল: ৩২ টাকা ৭৭ পয়সা
- কাতারি রিয়াল: ৩৩ টাকা ৫৭ পয়সা
- কুয়েতি দিনার: ৩৯৭ টাকা ৬৭ পয়সা
- সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহাম: ৩৩ টাকা ৪৩ পয়সা
বাজার পরিস্থিতি ও ব্যাংকভেদে মুদ্রার বিনিময় হার পরিবর্তিত হতে পারে।
আর্থিক খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কঠোর নজরদারি এবং প্রবাসী আয়ের (রেমিট্যান্স) ইতিবাচক প্রবাহের কারণে খোলাবাজার ও আনুষ্ঠানিক বাজারের বিনিময় হারের ব্যবধান অনেকটাই কমে এসেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসের শুরুতে আন্তঃব্যাংক বাজারে ডলারের সর্বনিম্ন দর ছিল ১২২ টাকা ৮৫ পয়সা। মাসের শেষ দিকে তা বেড়ে ১২৩ টাকা ৮২ পয়সায় পৌঁছায়। তবে আজ ডলার ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় লেনদেন হচ্ছে। ডলারের এই দরপতন আমদানিকারক ও সাধারণ ব্যবসায়ীদের জন্য কিছুটা স্বস্তি তৈরি করতে পারে।



