tanaka

শতাধিক গুলি, হেরোইন ও অস্ত্রসহ যুবক গ্রেপ্তার

ঢাকার কেরানীগঞ্জে অভিযান চালিয়ে মো. মাসুদ (২৫) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি...
প্রচ্ছদটপ নিউজমির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার

মির্জা ফখরুলই বিএনপির রাষ্ট্রপতি প্রার্থী, ঘোষণা বুধবার

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির দুই জ্যেষ্ঠ সদস্য বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তারা জানান, আগামী বুধবার (১২ আগস্ট) দলীয়ভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বর্তমানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির মহাসচিব হিসেবেও দায়িত্বে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘ দেড় যুগের বেশি সময় পর বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় ফিরেছে। এ অবস্থায় দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এমন একজন ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চাইবে, যিনি রাষ্ট্রের সংকটময় সময়ে দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। রাষ্ট্রের যেকোনো সংকটে রাষ্ট্রপতিকে অভিভাবকের ভূমিকা পালন করতে হয়। বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, মির্জা ফখরুল সেই ভূমিকার জন্য উপযুক্ত।

এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বিএনপির মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করছেন মির্জা ফখরুল। দলের কঠিন সময়ে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দলের অবস্থান তুলে ধরা—সব ক্ষেত্রেই তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। দীর্ঘদিন দলের মুখপাত্র হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।

তার পরিমিত বক্তব্য, ধীরস্থির রাজনৈতিক কৌশল ও শালীন আচরণ রাজনৈতিক অঙ্গনে তাকে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা দিয়েছে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার ক্ষেত্রেও তার সমন্বয়কের ভূমিকা রয়েছে।

বিএনপির নেতাকর্মীদের কাছে মির্জা ফখরুল দীর্ঘদিন ধরে দলের দুঃসময়ের কাণ্ডারি হিসেবে পরিচিত। সাদামাটা জীবনযাপন ও মার্জিত ব্যক্তিত্বের জন্যও তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে পরিচিত। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ না থাকার বিষয়টিও তার ভাবমূর্তির অন্যতম দিক হিসেবে তুলে ধরেন দলটির নেতারা।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিএনপির কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলকে ঐক্যবদ্ধ রাখতে মির্জা ফখরুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতি এবং বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দীর্ঘ প্রবাসজীবনের সময়েও তিনি ধৈর্য ও সাংগঠনিক দক্ষতার সঙ্গে দলের নেতৃত্বে ছিলেন।

বিভিন্ন মামলা, হামলা ও কারাবরণের মতো প্রতিকূলতার মধ্যেও দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা এবং জিয়া পরিবারের প্রতি তার আনুগত্য বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে তাকে বিশেষ অবস্থানে নিয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে জাতীয় রাজনীতির কঠিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার অভিজ্ঞতা রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক ও ভারসাম্যপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাকে এগিয়ে রাখছে বলে মনে করেন দলটির অনেক নেতা-কর্মী।

রাজনৈতিক মহলে মির্জা ফখরুলের তুলনামূলকভাবে বিস্তৃত গ্রহণযোগ্যতার কথাও বলা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতির পদ কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের নয়, বরং রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদগুলোর একটি। এ কারণে দলীয় পরিচয়ের বাইরে সবার কাছে গ্রহণযোগ্য এমন একজন ব্যক্তিকে এ পদে বসানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মির্জা ফখরুলের রাজনৈতিক অবস্থান, বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ এবং কূটনৈতিক অঙ্গনে পরিচিতিও রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সম্ভাব্য ভূমিকার ক্ষেত্রে ইতিবাচক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

১৯৪৮ সালে ঠাকুরগাঁওয়ে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ও পারিবারিক পটভূমিও দীর্ঘদিনের। তার বাবা প্রয়াত রুহুল আমিন (চখা মিয়া) কৃষি প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তার বড় চাচা মির্জা গোলাম হাফিজ ১৯৭৮ থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী এবং ১৯৭৯ থেকে ১৯৮২ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় জাতীয় সংসদের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

মির্জা ফখরুল একজন সাবেক শিক্ষক ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ। ১৯৭২ সালে বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তিনি শিক্ষা ক্যাডারে যোগ দেন এবং ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগে শিক্ষকতা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করেন। এছাড়া বাংলাদেশ সরকারের পরিদর্শন ও আয়-ব্যয় পরীক্ষণ অধিদপ্তরে নিরীক্ষক হিসেবেও কাজ করেন।

১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এসএ বারীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল। ১৯৮২ সালে এইচএম এরশাদ ক্ষমতায় আসার পর বারী পদত্যাগ করার আগ পর্যন্ত তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতির অধ্যাপক হিসেবে যোগ দিয়ে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত শিক্ষকতা করেন।

২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। পরে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন।

সংবিধান অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। এ লক্ষ্যে সংসদ সচিবালয় থেকে সংসদ সদস্যদের নামের ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছে। আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।