tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকলিসবনে পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া হলো ৩০ হাজার প্রজননে অক্ষম পুরুষ মশা

লিসবনে পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া হলো ৩০ হাজার প্রজননে অক্ষম পুরুষ মশা

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এশিয়ান টাইগার মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে পরীক্ষামূলকভাবে ৩০ হাজার প্রজননে অক্ষম পুরুষ মশা ছাড়া হয়েছে। ডেঙ্গু, জিকা ও হলুদ জ্বরের মতো রোগের ঝুঁকি কমাতে নেওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য হলো প্রজনন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করে ধীরে ধীরে বন্য মশার সংখ্যা কমিয়ে আনা।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) লিসবনের আলভালাদে এলাকায় এসব মশা ছাড়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিশেষ পদ্ধতিতে মশাগুলোকে প্রজননে অক্ষম করা হয়েছে।

এডিস অ্যালবোপিকটাস প্রজাতির এশিয়ান টাইগার মশা বিভিন্ন ভাইরাসজনিত রোগের বাহক হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ডেঙ্গু, জিকা ও হলুদ জ্বরের মতো রোগ ছড়িয়ে জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে এ মশা।

তবে এ উদ্যোগে যে মশাগুলো ছাড়া হয়েছে, সেগুলো পুরুষ মশা। পুরুষ মশা মানুষের রক্ত পান করে না এবং মানুষকে কামড়ায়ও না। মূলত স্ত্রী মশাই মানুষের রক্ত পান করে। ফলে প্রজননে অক্ষম পুরুষ মশা পরিবেশে ছেড়ে দিয়ে স্ত্রী মশার সঙ্গে তাদের প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার বন্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

যেভাবে কমবে মশার সংখ্যা

প্রজননে অক্ষম পুরুষ মশাগুলো বন্য পরিবেশে থাকা স্বাভাবিক পুরুষ মশার সঙ্গে স্ত্রী মশার মিলনের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা করবে। কোনো স্ত্রী মশার সঙ্গে এসব পুরুষ মশার মিলন হলেও সেখান থেকে কার্যকর বংশধর জন্মাবে না। ফলে কয়েকটি প্রজননচক্রের পর ওই এলাকায় নতুন মশার সংখ্যা ধীরে ধীরে কমে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

প্রকল্পের নেতা ও জনস্বাস্থ্যবিষয়ক চিকিৎসক আফনসো মোরেইরা বলেন, প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে ছাড়া মশাগুলো কত দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং পরিবেশে কতদিন টিকে থাকে, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে পুরো কার্যক্রমের কার্যকারিতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যাবে।

পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলে আগামী মে মাসে প্রকল্পের আওতায় মশা ছাড়া হয়েছে এমন এলাকা এবং নিয়ন্ত্রিত এলাকার মধ্যে তুলনামূলক গবেষণা পরিচালনা করা হবে। এর মাধ্যমে প্রজননে অক্ষম পুরুষ মশা ছাড়ার ফলে বাস্তবে মশার সংখ্যা কতটা কমছে, তা মূল্যায়ন করা হবে।

পর্তুগালে মোট ৬০ হাজার মশা ছাড়া হয়েছে

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পর্তুগালে এ ধরনের উদ্যোগের আওতায় এরই মধ্যে মোট ৬০ হাজার মশা ছাড়া হয়েছে। এবারের ৩০ হাজার মশা ছাড়ার কার্যক্রমটিই এ প্রকল্পের শেষ ধাপ বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রজননে অক্ষম পুরুষ মশা ছেড়ে দিলেই মশার বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে জমে থাকা পানি, পরিত্যক্ত পাত্রসহ যেসব স্থানে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে, সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার ও ধ্বংস করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।

অর্থাৎ মশার সংখ্যা কমাতে জীবপ্রযুক্তিনির্ভর এই পদ্ধতির পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার মতো প্রচলিত ব্যবস্থাও সমন্বিতভাবে চালিয়ে যেতে হবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তথ্যসূত্র: ইউরোনিউজ