tanaka
প্রচ্ছদতথ্যপ্রযুক্তিমহাবিশ্বের নতুন মানচিত্র তৈরি করবে নাসার ‘রোমান’ টেলিস্কোপ

মহাবিশ্বের নতুন মানচিত্র তৈরি করবে নাসার ‘রোমান’ টেলিস্কোপ

মহাবিশ্বের অজানা রহস্য উন্মোচন এবং এর বিশাল এক নতুন মানচিত্র তৈরির লক্ষ্য নিয়ে আজ রবিবার মহাকাশে যাত্রা শুরু করছে নাসার ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’। ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেসএক্সের ফ্যালকন হেভি রকেটে করে টেলিস্কোপটি উৎক্ষেপণের কথা রয়েছে। অত্যাধুনিক এই টেলিস্কোপের দৃষ্টিসীমা হাবল স্পেস টেলিস্কোপের তুলনায় ১০০ গুণেরও বেশি। ফলে মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্য ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়ার আশা করছেন বিজ্ঞানীরা। খবর ফ্রান্স ২৪-এর।

মার্কিন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ন্যান্সি গ্রেস রোমানের নামেই টেলিস্কোপটির নামকরণ করা হয়েছে। ৪০০ কোটি ডলারের বেশি ব্যয়ে এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তৈরি করা হয়েছে নাসার এই ফ্ল্যাগশিপ মহাকাশ টেলিস্কোপ। উৎক্ষেপণের পর এটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১৫ লাখ কিলোমিটার দূরের একটি কক্ষপথে অবস্থান নেবে। সেখানে পৌঁছাতে এর প্রায় ১০০ দিন সময় লাগবে।

রোমান টেলিস্কোপ এককভাবে কাজ করবে না। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপসহ অন্যান্য মহাকাশ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সঙ্গে সমন্বয় করে এটি মহাবিশ্ব পর্যবেক্ষণ করবে। এর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো হাজার হাজার এক্সোপ্ল্যানেট—অর্থাৎ সৌরজগতের বাইরের গ্রহ—এবং বিপুলসংখ্যক সুপারনোভা শনাক্ত ও আবিষ্কার করা।

বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্বের মোট ভর-শক্তির প্রায় ৯৫ শতাংশই ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির সঙ্গে সম্পর্কিত। কিন্তু এই দুই রহস্যময় উপাদানের প্রকৃতি ও উৎস এখনো পুরোপুরি জানা যায়নি। রোমানের উন্নত ইনফ্রারেড প্রযুক্তি মহাবিশ্বের বহু দূরবর্তী অঞ্চল থেকে আসা আলো শনাক্ত করতে পারবে। এর মাধ্যমে শত শত কোটি বছর আগের মহাবিশ্বের চিত্র পর্যবেক্ষণ করে এর বিবর্তন সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, রোমানের বিস্তৃত পর্যবেক্ষণ মহাবিশ্বের গঠন, বিবর্তন, গ্রহব্যবস্থার উৎপত্তি এবং ডার্ক ম্যাটার ও ডার্ক এনার্জির রহস্য সম্পর্কে নতুন তথ্য দেবে। টেলিস্কোপটি প্রতিদিন প্রায় ১ দশমিক ৩ টেরাবাইট তথ্য পৃথিবীতে পাঠাবে। এসব তথ্য বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করা হবে, যা মহাকাশ গবেষণায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।