ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের কারাগারে মানবেতর জীবনযাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভীর। অভিযোগ উঠেছে, বন্দিদের দুর্ভোগের বিষয়টি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা না করে তিনি তা নিয়ে উপহাস করেছেন এবং পরিস্থিতিকে নিজের রাজনৈতিক অবস্থানের পক্ষে ব্যবহার করেছেন। খবর মিডল ইস্ট আইয়ের।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেন-গভীর সম্প্রতি দমন কারাগার পরিদর্শন করেন এবং সেখানে আটক ফিলিস্তিনি নারী বন্দিদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় কয়েকজন বন্দি খাবার, পানি ও চিকিৎসাসেবার সংকটসহ কারাগারের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন। পরে তাদের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন মন্ত্রী।
‘কারাগারে ভালো থাকার দিন শেষ’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে কয়েকজন ফিলিস্তিনি নারী বন্দিকে তাদের দুরবস্থার কথা বলতে দেখা যায়। তারা খাবার, পানীয় জল ও স্বাস্থ্যসেবার সংকটের কথা তুলে ধরেন।
তবে ভিডিওতে বেন-গভীরকে বন্দিদের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার পরিবর্তে কঠোর অবস্থান নিতে দেখা যায়। তিনি বলেন, কারাগারে বন্দিদের আরাম-আয়েশের দিন শেষ। বন্দিদের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য তিনি নিজেকেই দায়ী বলে উল্লেখ করেন।
পরে ভিডিওটির সঙ্গে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, বন্দিদের কান্না তাকে প্রভাবিত করবে না এবং তাদের সুযোগ-সুবিধা আরও সীমিত করার পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
চিকিৎসাসেবা না পাওয়ার অভিযোগ
ভিডিওতে জেনিনের ৪৯ বছর বয়সী ফিলিস্তিনি নারী হান্না তাহায়নেহকেও কথা বলতে দেখা যায়। তিনি কারাগারে তাদের জীবনযাপনের নানা সমস্যার কথা মন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
হান্নার স্বামী শরিফ তাহায়নেহ দাবি করেন, পর্যাপ্ত খাবারের অভাবে কারাগারে তার স্ত্রীর ওজন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগলেও তিনি প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন।
তার ভাষ্য, ফিলিস্তিনি বন্দিদের দুর্দশা তুলে ধরার পরিবর্তে তাদের অপমান করার উদ্দেশ্যেই মন্ত্রী ভিডিওটি প্রকাশ করেছেন।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা
ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ফিলিস্তিনি বন্দিদের সঙ্গে আচরণ নিয়ে নতুন করে সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো বন্দিদের খাবার, পানি ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের সঙ্গে মানবিক আচরণের আহ্বান জানিয়েছে।
ফিলিস্তিনি বন্দিবিষয়ক সংগঠন (পিপিসি) অভিযোগ করেছে, ইসরাইলি কারাগারগুলোতে ফিলিস্তিনি বন্দিদের ওপর নির্যাতন ও কঠোর আচরণ করা হচ্ছে। তাদের দাবি, বেন-গভীর বন্দিদের দুর্ভোগকে রাজনৈতিক প্রচারণার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছেন।
এদিকে হামাস ও ইসলামিক জিহাদসহ ফিলিস্তিনের বিভিন্ন সংগঠন ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে। তাদের দাবি, এ ঘটনা ইসরাইলি প্রশাসনের নৈতিক অবস্থানের অবনতির বহিঃপ্রকাশ। তারা ফিলিস্তিনি বন্দিদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের হস্তক্ষেপ দাবি করেছে।



