একজন মুমিনের কাছে জীবনসঙ্গী মানে শুধু দুনিয়ার সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়া নয়। প্রত্যাশা থাকে এমন একজন মানুষের, যিনি ভালোবাসার পাশাপাশি ঈমান ও আমলের পথেও পাশে থাকবেন। একে অপরকে আল্লাহর ইবাদতে উৎসাহ দেবেন, ভুল হলে কোমলভাবে মনে করিয়ে দেবেন এবং দুনিয়ার জীবনের পথচলাকে আখিরাতের সফলতার সঙ্গে যুক্ত রাখবেন।
ফজরের ভোর হোক ইবাদতে শুরু
আল্লাহ তাআলা বলেন—
حَافِظُوا عَلَى الصَّلَوَاتِ وَالصَّلَاةِ الْوُسْطَىٰ وَقُومُوا لِلَّهِ قَانِتِينَ
‘তোমরা সমস্ত নামাজ ও মধ্যবর্তী নামাজের হিফাজত কর এবং আল্লাহর সামনে বিনম্রচিত্তে দাঁড়াও।’
—সুরা আল-বাকারা, আয়াত ২৩৮
জীবনের প্রতিটি সকাল শুরু হতে পারে মহান আল্লাহর স্মরণ দিয়ে। এমন একজন মানুষ পাশে থাকুক, যিনি ফজরের নামাজ ছুটে গেলে ভালোবাসা মেশানো অভিমানে তা মনে করিয়ে দেবেন। অজু শেষে পাশাপাশি বসে কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হবে দিনের পথচলা।
পবিত্র কুরআনের বাণী—
يس وَالْقُرْآنِ الْحَكِيمِ
‘ইয়াসিন। প্রজ্ঞাময় কুরআনের কসম।’
—সুরা ইয়াসিন
ব্যস্ততার মাঝেও নামাজের কথা মনে করিয়ে দেওয়া
কর্মব্যস্ত দিনেও একজন মুমিনের জন্য নামাজের গুরুত্ব যেন হারিয়ে না যায়। জীবনসঙ্গী এমন হতে পারেন, যিনি জোহরের নামাজের সময় পার হয়ে গেলে মায়ামাখা অভিমানে ভুলটি মনে করিয়ে দেবেন। আসরের সময়ও যেন অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততা বা বিনোদনে কেটে না যায়, সে বিষয়ে পরস্পরকে সতর্ক করবেন।
এই শাসন হবে কর্তৃত্বের নয়, বরং ভালোবাসা থেকে—যাতে দুজনের কেউই অবহেলার কারণে কোনো নেক আমল থেকে বঞ্চিত না হন।
মাগরিবের সন্ধ্যায় আখিরাতের ভাবনা
আল্লাহর কাছে দুনিয়া ও আখিরাত—দুই জীবনের কল্যাণ চেয়ে যে দোয়া করা হয়, তা হলো—
رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ
‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দিন এবং আখিরাতেও কল্যাণ দিন এবং আমাদের অগ্নিকুণ্ডের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’
—সুরা আল-বাকারা, আয়াত ২০১
সন্ধ্যার প্রশান্ত সময়ে এমন একজন সঙ্গী থাকুক, যিনি ভালোবাসার সঙ্গে নামাজের কথা মনে করিয়ে দেবেন। নামাজ শেষে দুজন মিলে আল্লাহর কাছে জাহান্নামের আগুন থেকে আশ্রয় চাইবেন—
اللَّهُمَّ أَجِرْنَا مِنَ النَّارِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আজিরনা মিনান-নার।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমাদের জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন।
জীবনের লক্ষ্য যেন শুধু বেশি অর্থ উপার্জন বা পার্থিব অর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থাকে। বরং জীবনসঙ্গী একে অপরকে রিজিকের জন্য আল্লাহর ওপর ভরসা, বরকতের জন্য দোয়া এবং আখিরাতের প্রস্তুতির কথা মনে করিয়ে দিতে পারেন।
রাতে কুরআন তিলাওয়াত ও অন্যান্য নেক আমলের মাধ্যমে দিন শেষ করার অভ্যাসও গড়ে তোলা যেতে পারে। সুরা ওয়াকিয়া পাঠ সম্পর্কে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—
مَنْ قَرَأَ سُورَةَ الْوَاقِعَةِ فِي كُلِّ لَيْلَةٍ لَمْ تُصِبْهُ فَاقَةٌ أَبَدًا
‘যে ব্যক্তি প্রতি রাতে সুরা ওয়াকিয়া পাঠ করবে, তাকে কখনো দারিদ্র্য স্পর্শ করবে না।’
—বাইহাকি, ২২৬৯
সবশেষে প্রত্যাশা এমন একজন জীবনসঙ্গীর, যিনি শুধু দুনিয়ার আনন্দ-বেদনায় পাশে থাকবেন না; বরং দুজনের হাত একসঙ্গে ধরে আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে এগিয়ে যেতে সাহায্য করবেন। যার সঙ্গে সংসার হবে ভালোবাসার, আর সেই ভালোবাসাই হবে নেক আমল, ঈমান ও আখিরাতের প্রস্তুতির প্রেরণা।
এমন সঙ্গীর সঙ্গে জীবনের প্রতিটি সকাল শুরু হতে পারে ইবাদতে, প্রতিটি দিন কাটতে পারে পরস্পরকে ভালো কাজে উৎসাহ দেওয়ার মধ্য দিয়ে, আর প্রতিটি রাত শেষ হতে পারে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশায়।



