রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ভরা মৌসুমেও পদ্মা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশের দেখা মিলছে না। প্রতিদিন ভোরে আশা নিয়ে নদীতে নামলেও দিন শেষে অনেক জেলেকেই ফিরতে হচ্ছে প্রায় খালি হাতে। কেউ কেউ সামান্য কিছু ছোট মাছ নিয়ে ঘাটে ফিরছেন। এতে আয়-রোজগার কমে ঋণের বোঝা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন নদীপাড়ের জেলেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্যান্য বছর এ সময়ে পদ্মাপাড়ের মাছের আড়তগুলোতে ইলিশের হাঁকডাক ও কেনাবেচায় ব্যস্ততা থাকলেও এবার চিত্র ভিন্ন। ঘাটে সারি সারি ট্রলার ও নৌকা নোঙর করে রয়েছে। আড়তগুলোতেও নেই তাজা ইলিশের সেই চিরচেনা দৃশ্য।
জেলেরা জানান, প্রতিদিন জ্বালানি তেল, জাল ও নৌকার পেছনে যে পরিমাণ অর্থ খরচ হচ্ছে, মাছ বিক্রি করে তার সামান্য অংশও উঠে আসছে না। ফলে মহাজন, এনজিও ও বিভিন্ন ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণের কিস্তি পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
পদ্মাপারের জেলে সালাম প্রামাণিক, বাবু হলদার ও নিজাম সরদার বলেন, প্রতিদিন নদীতে গিয়ে দীর্ঘ সময় জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে না। মাছ কমে যাওয়ায় তাদের আয় অনেকটাই কমে গেছে।
প্রবীণ জেলে বাসুদেব হলদার বলেন, নদীতে পানির গভীরতা কমে গেছে এবং বিভিন্ন স্থানে ডুবোচর জেগে উঠেছে। পাশাপাশি আবহাওয়াও অনুকূলে নেই। আগে যেখানে জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ত, এখন সারাদিন জাল টেনেও মাঝারি আকারের একটি ইলিশ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
সামনে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা
ইলিশের সংকটের মধ্যেই সামনে আসছে মা ইলিশ রক্ষার ২২ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা। দেবগ্রাম ও দৌলতদিয়া মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির সভাপতি রহমান শেখ বলেন, নদীতে মাছ না থাকায় এমনিতেই জেলেদের সংসার চালাতে কষ্ট হচ্ছে। এর মধ্যে ৮ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা শুরু হওয়ায় আয়-রোজগার আরও বন্ধ হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে কীভাবে সংসার চলবে, তা নিয়ে অনেক জেলে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কেউ কেউ বিকল্প কর্মসংস্থানের কথা ভাবছেন।
নদীর নাব্য সংকট ও নিষিদ্ধ জালকে দায়ী করছে মৎস্য বিভাগ
গোয়ালন্দ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, ডিম ছাড়ার উদ্দেশ্যে সাগর থেকে মিঠাপানির দিকে ইলিশের আসার পথে নদীর নাব্য সংকট, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার এবং নির্বিচারে জাটকা নিধনের কারণে উজানে ইলিশের আগমন কমেছে।
তিনি জানান, মা ইলিশ রক্ষায় আগামী ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন নদীতে ইলিশ আহরণ, পরিবহন ও ক্রয়-বিক্রয় নিষিদ্ধ থাকবে। এ সময়ে তালিকাভুক্ত জেলেদের সরকারি খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে।
মৎস্য বিভাগের এই কর্মকর্তা আশা প্রকাশ করেন, জাতীয় কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ইলিশের প্রজনন বাড়বে এবং ভবিষ্যতে পদ্মায় ইলিশের সংকট অনেকটাই কমে আসবে।



