tanaka
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিবাড়ছে সোনার দাম, আপনার টাকা কি নিরাপদ?

বাড়ছে সোনার দাম, আপনার টাকা কি নিরাপদ?

বিশ্ববাজারে সোনার দামে আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। মূল্যবান এই ধাতুর দাম ইতোমধ্যে প্রতি ট্রয় আউন্স ৪ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেও দাম ছিল ৪ হাজার ডলারের আশপাশে। দ্রুত মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগকারীদের নজরও আবার সোনার দিকে ফিরেছে।

তবে সোনায় বিনিয়োগের আকর্ষণ শুধু দাম বাড়ার কারণে নয়। মূল্যস্ফীতির সময়ে সম্পদের প্রকৃত মূল্য ধরে রাখার ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই সোনাকে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দীর্ঘমেয়াদে সোনা কি সত্যিই মূল্যস্ফীতিকে হারাতে পেরেছে?

কী বলছে ৩০ বছরের তথ্য

ভারতের বিনিয়োগ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ফান্ডসইন্ডিয়ার আগস্ট ২০২৬-এর ‘ওয়েলথ কনভারসেশনস’ প্রতিবেদনে এ বিষয়ে একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হয়েছে। এতে ১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে সোনার রিটার্নের সঙ্গে মূল্যস্ফীতির তুলনা করা হয়েছে।

বিশ্লেষণে সোনার রিটার্ন ও মূল্যস্ফীতির পার্থক্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পার্থক্য ইতিবাচক হলে বোঝায়, সোনা মূল্যস্ফীতির চেয়ে বেশি রিটার্ন দিয়েছে। আর পার্থক্য ঋণাত্মক হলে বোঝায়, ওই সময়ে মূল্যস্ফীতি সোনার রিটার্নকে ছাড়িয়ে গেছে।

এক বছরের বিনিয়োগে ছিল বড় ওঠানামা

মাত্র এক বছরের বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সোনার পারফরম্যান্স ছিল বেশ অনিশ্চিত। ১৯৯৫ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের মেয়াদে সোনা গড়ে প্রতি বছর প্রায় ৪ শতাংশ পয়েন্ট মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে গেছে।

তবে সব সময়ে একই চিত্র দেখা যায়নি। কোনো কোনো এক বছরের মেয়াদে সোনা মূল্যস্ফীতির তুলনায় সর্বোচ্চ ২৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি রিটার্ন দিয়েছে। আবার কিছু সময়ে সোনার রিটার্ন মূল্যস্ফীতির চেয়ে ২৮ শতাংশ পয়েন্ট পর্যন্ত কম ছিল।

সময় বাড়লে সোনার ফলাফল হয় আরও স্থিতিশীল

ফান্ডসইন্ডিয়ার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বিনিয়োগের সময়কাল যত বেড়েছে, সোনার মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতাও তত বেশি ধারাবাহিক হয়েছে।

বিশেষ করে পাঁচ বছরের মেয়াদে সোনার গড় বার্ষিক রিটার্ন মূল্যস্ফীতির তুলনায় তুলনামূলকভাবে বেশি স্থিতিশীল ছিল। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সোনাকে সুরক্ষা হিসেবে বিবেচনা করতে হলে স্বল্পমেয়াদি দামের ওঠানামার পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের দিকেই বেশি নজর দেওয়া প্রয়োজন।

তবে প্রদত্ত তথ্যের মধ্যে পাঁচ বছরের ক্ষেত্রে সোনা ঠিক কত শতাংশ পয়েন্ট মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি। তাই শুধু এই তথ্যের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট রিটার্নের পরিমাণ দাবি করা ঠিক হবে না।

সোনা কি মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে ঢাল?

সাম্প্রতিক সময়ে সোনার দাম দ্রুত বাড়লেও শুধু এ কারণেই সোনাকে মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিখুঁত সুরক্ষা বলা যায় না। বিশেষ করে এক বছরের মতো স্বল্পমেয়াদি বিনিয়োগে এর রিটার্নে বড় ধরনের ওঠানামা হতে পারে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি তথ্য বলছে, সময় বাড়ার সঙ্গে সোনার মূল্যস্ফীতিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা তুলনামূলকভাবে বেশি ধারাবাহিক হয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির সময়ে সম্পদের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখার ক্ষেত্রে সোনা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ মাধ্যম হতে পারে।

তবে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সোনার বর্তমান দাম, ভবিষ্যৎ বাজার পরিস্থিতি, বিনিয়োগের সময়কাল এবং নিজের আর্থিক লক্ষ্য বিবেচনা করা জরুরি।