tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়১৪ ফুলফিলমেন্ট সেন্টার ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে আধুনিক হচ্ছে ডাকসেবা

১৪ ফুলফিলমেন্ট সেন্টার ও ফ্র্যাঞ্চাইজি মডেলে আধুনিক হচ্ছে ডাকসেবা

সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ডাক ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ। এর অংশ হিসেবে উদ্যোক্তাভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাতের পণ্য ব্যবস্থাপনায় দেশজুড়ে ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার চালুর প্রস্তুতিও এগিয়ে চলছে।

ডাক অধিদপ্তর জানিয়েছে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সেবার মানোন্নয়ন এবং ডিজিটাল রূপান্তরকে সামনে রেখে সাতটি খাতে একযোগে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী ডাক বিভাগকে ধীরে ধীরে আধুনিক লজিস্টিকস সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ফ্র্যাঞ্চাইজি পোস্ট অফিসে উদ্যোক্তাদের যুক্ত করার উদ্যোগ

নতুন ব্যবস্থার আওতায় বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সম্পৃক্ত করে পণ্য সংগ্রহ ও সরবরাহের সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে পিকআপ ও ডেলিভারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম বলেন, চিঠিপত্রের প্রচলিত ব্যবস্থার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় ডাক বিভাগকে একটি আধুনিক ও জনবান্ধব লজিস্টিকস প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা হচ্ছে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ব্যবস্থা চালু হলে ডাকসেবার প্রচলিত সময় ও ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা অনেকটাই কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ডাক বিভাগের নিজস্ব পোস্ট অফিস নেটওয়ার্কের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোক্তারা যুক্ত হলে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং সাধারণ মানুষ আরও সহজে ডাকসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।

ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, আগ্রহী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নির্ধারিত নিয়ম মেনে চুক্তি করা হবে। চুক্তির আওতায় তারা মূলত পণ্য সংগ্রহ ও গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়ার কাজ করবেন। তবে পুরো কার্যক্রম ডাক বিভাগের সরাসরি তত্ত্বাবধানে থাকবে। কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি নির্ধারিত মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হলে কিংবা নিয়ম ভঙ্গ করলে চুক্তি বাতিলের সুযোগ থাকবে।

৩১২ টনের বেশি মৌসুমি ফল সরবরাহ

কৃষিপণ্য পরিবহনেও ডাক বিভাগের কার্যক্রম সম্প্রসারিত হয়েছে। ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার আওতায় চলতি মৌসুমে দেশের বিভিন্ন উৎপাদন এলাকা থেকে ৩১২ টনের বেশি মৌসুমি ফল সংগ্রহ করে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

রাজশাহীর আমের পাশাপাশি সাতক্ষীরা, খাগড়াছড়িসহ দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ফল সংগ্রহ করা হয়েছে। এতে বিশেষভাবে সুবিধা পেয়েছেন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক উদ্যোক্তারা, যারা নিজেদের উৎপাদিত পণ্য তুলনামূলক সহজে ভোক্তার কাছে পাঠানোর সুযোগ পেয়েছেন।

যুক্ত হচ্ছে নতুন ডিজিটাল সেবা

ডাক বিভাগের সেবায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতেও একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন নথি, যেমন ভিডিও মামলা ও ট্রাফিক নোটিশ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ঠিকানায় ডাকযোগে পাঠানোর জন্য প্রয়োজনীয় কারিগরি সংযুক্তির কাজ শেষ হয়েছে। এটি ডাক বিভাগের নতুন এজেন্সি সেবার আওতায় যুক্ত হচ্ছে।

এ ছাড়া ডাক বিভাগের ডিজিটাল আর্থিক সেবা ‘নগদ’-এর মাধ্যমে ডাক জীবন বীমার প্রিমিয়াম সংগ্রহের প্রযুক্তিগত সংযোগও সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের পোস্ট অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়ানোর পরিবর্তে ঘরে বসেই বীমার প্রিমিয়াম পরিশোধের সুযোগ তৈরি হবে।

৬ হাজার অ্যান্ড্রয়েড ফোন ও ৬ হাজার থার্মাল প্রিন্টার

মেইল প্রসেসিং ও লজিস্টিকস ব্যবস্থাকে আধুনিক করতে দেশের বিভিন্ন পোস্ট অফিসে ৬ হাজার অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল, ৬ হাজার থার্মাল প্রিন্টার এবং ৫০০ কম্পিউটার সরবরাহের কার্যক্রম চলছে।

একই সঙ্গে মেইল ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণের জন্য তিনটি সফটওয়্যার তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। পরিবেশবান্ধব পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ডাক বিভাগের বহরে ইতোমধ্যে ৫০টি ই-বাইক যুক্ত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, সর্বজনীন ডাক ইউনিয়ন (ইউপিইউ) থেকে পাওয়া ৩৩টি নতুন ডেলিভারি মেইল ভ্যানও দেশের বিভিন্ন মেইল লাইনে যুক্ত করা হয়েছে।

১৪টি শহরে হচ্ছে ফুলফিলমেন্ট সেন্টার

ই-কমার্স ও এফ-কমার্স খাতের দ্রুত সম্প্রসারণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে ডাক বিভাগের সবচেয়ে বড় উদ্যোগগুলোর একটি হচ্ছে ১৪টি ফুলফিলমেন্ট সেন্টার স্থাপন। এসব কেন্দ্রে অনলাইন ব্যবসার পণ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্রসেসিং, বুকিং, বাছাই, পরিবহন ও গ্রাহকের কাছে সরবরাহের মতো কাজ পরিচালনা করা হবে।

প্রস্তাবিত কেন্দ্রগুলো স্থাপন করা হবে ঢাকার তেজগাঁও, গোপালগঞ্জ, ঈশ্বরদী, ময়মনসিংহ, খুলনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল, দিনাজপুর, হবিগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও যশোরে।

ডাক অধিদপ্তরের পরিচালক ড. মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান জানান, ১৪টি স্থানে আধুনিক স্থাপনা নির্মাণের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এখন প্রশাসনিক ও প্রক্রিয়াগত কিছু কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর কেন্দ্রগুলোর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।

ডাক বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, এসব উদ্যোগ পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে ডাকসেবার পরিধি ও মান উভয়ই বাড়বে। একই সঙ্গে দেশের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল ও ই-কমার্সনির্ভর অর্থনীতিতে সরকারি লজিস্টিকস সেবাদাতা হিসেবে ডাক বিভাগের ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।