tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়স্বাভাবিক হয়ে আসছে গ্যাস সরবরাহ

স্বাভাবিক হয়ে আসছে গ্যাস সরবরাহ

গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হওয়ায় শিল্প, সিএনজি ও আবাসিক খাতে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। লোডশেডিং কমানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিনের গ্যাস সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প খাতকে স্বস্তি দিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) জানিয়েছে, আপাতত ফার্নেস অয়েল ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখ বলেছেন, লোডশেডিং কমানো এবং শিল্প খাত সচল রাখতে সরকার প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নিচ্ছে। এ জন্য ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান বিশ্ববাজারে এলএনজির তুলনায় ফার্নেস অয়েল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন তুলনামূলক সাশ্রয়ী। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে এলএনজি সরবরাহও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। স্পট মার্কেটে টেন্ডার করেও পর্যাপ্ত সরবরাহকারী পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ২৬ আগস্টের নির্ধারিত এলএনজি কার্গোর জন্যও সরবরাহকারী পাওয়া যায়নি।

গত এক মাসেরও বেশি সময় ধরে গ্যাস সংকটে দেশের শত শত শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ১২ আগস্ট শিল্প খাত থেকে ২০-২৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস বিদ্যুৎ খাতে সরিয়ে নেওয়ার পর বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও শিল্পে সংকট আরও তীব্র হয়। অনেক কারখানার উৎপাদন তলানিতে নেমে আসে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শিল্পে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেয় সরকার।

শনিবার রাত থেকে বিদ্যুৎ খাতে গ্যাসের বরাদ্দ কমিয়ে শিল্প, সিএনজি ও আবাসিক খাতে সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে। আগে বিদ্যুৎকেন্দ্রে দৈনিক প্রায় ৯৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস দেওয়া হলেও এখন দেওয়া হচ্ছে ৮৫ কোটি ঘনফুট। অন্যদিকে শিল্প, আবাসিক, সিএনজি ও অন্যান্য খাতে দেওয়া হচ্ছে ১৩৫ কোটি ঘনফুট। সার খাতে সরবরাহ করা হচ্ছে আরও ১৭ কোটি ঘনফুট।

রোববার বিকাল ৪টায় দেশে মোট গ্যাস সরবরাহ ছিল ২৩৭ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। এর মধ্যে এলএনজি থেকে এসেছে ৭৫ কোটি ৯০ লাখ ঘনফুট। পেট্রোবাংলা জানিয়েছে, ২৬ আগস্টের জন্য কোনো এলএনজি কার্গো পাওয়া যায়নি। ফলে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ২৩৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখা কঠিন হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের সভাপতিত্বে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে গ্যাসের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। শিল্প খাতকে সচল রাখতে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

দেশে ৫৩টির বেশি ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্র থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ হাজার ৬৩৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও রোববার দুপুর ২টার হিসাবে উৎপাদন হয়েছে ২ হাজার ১৪৭ মেগাওয়াট। বাংলাদেশ প্রাইভেট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিট হাসনাত জানিয়েছেন, বেসরকারি তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে সহজেই ৪ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব। এ জন্য বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর বকেয়া পরিশোধ করা হলে তারা নিজেদের অর্থে ফার্নেস অয়েল এনে উৎপাদন বাড়াতে পারবে।

বিপ্পার তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম অনেক বেশি। বাংলাদেশকে প্রতি ইউনিট এলএনজি প্রায় ২৪ ডলারে কিনতে হচ্ছে। অন্যদিকে ফার্নেস অয়েলের দাম প্রায় ৭৫০ ডলার। এক ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে এলএনজি প্রয়োজন হয় প্রায় ৭ হাজার ১৫০ কিলোজুল এবং ফার্নেস অয়েল লাগে ৮ হাজার ১৫০ কিলোজুল। এ হিসাবে আমদানি শুল্ক ছাড়া এলএনজি দিয়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ পড়ে ১৫ টাকার বেশি, আর ফার্নেস অয়েলে খরচ হয় ১৪ টাকার বেশি। তবে আমদানি শুল্ক যুক্ত হলে ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের ব্যয় বাড়বে।

পিডিবির কর্মকর্তারা জানান, এবার গরমের সময় দীর্ঘায়িত হওয়ার সম্ভাবনা