tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিবাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

বাংলাদেশ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির পথে এগোচ্ছে: অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, সরকারের নতুন বাজেটে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে চট্টগ্রাম সফরে এসে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই), ক্যাপিটাল মার্কেটে বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক ফান্ড ম্যানেজারদের আগ্রহ ক্রমেই বাড়ছে। এসব বিনিয়োগ দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে। বাজেট প্রণয়নের ক্ষেত্রে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের সম্ভাবনা বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, যাতে স্থানীয় সম্পদ ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে সমন্বিত উন্নয়ন নিশ্চিত করা যায়।

চট্টগ্রামকে দেশের প্রধান লজিস্টিক্যাল হাব হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সমুদ্রবন্দর, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং শিল্পায়নের সুযোগের কারণে চট্টগ্রামের সম্ভাবনা অত্যন্ত উজ্জ্বল। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকার বিভিন্ন অবকাঠামোগত প্রকল্প ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি জানান, কর্ণফুলী নদীর ওপারে আনোয়ারায় প্রায় ৬০০ একর জমিতে একটি ফ্রি জোন প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রামে একাধিক নতুন বন্দর নির্মাণ, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে কার্গো ও যাত্রী পরিবহনের আঞ্চলিক হাবে উন্নীত করা এবং বন্দরভিত্তিক লজিস্টিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আরও বলেন, চট্টগ্রামে একটি চাইনিজ ইকোনমিক জোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের লাকসাম অংশের উন্নয়নের মাধ্যমে ট্রেন যাত্রার সময় প্রায় দুই ঘণ্টা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনৈতিক করিডর আরও শক্তিশালী হবে এবং বন্দরগুলোর সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে মাতারবাড়ীকেও ঘিরে বৃহৎ অর্থনৈতিক কার্যক্রম বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, এসব প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদি হলেও দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, বড় আকারের বাজেট বাস্তবায়ন একটি চ্যালেঞ্জিং কাজ। বর্তমান সরকার একটি দুর্বল অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। এর পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের প্রভাবও অর্থনীতির ওপর পড়েছে। তাই প্রথমে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে, এরপর উন্নয়নের সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানো হবে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ বছর থেকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও দৃশ্যমান হবে এবং বাংলাদেশ ধীরে ধীরে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। ধারাবাহিক বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সঠিক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির লক্ষ্যে পৌঁছাতে সক্ষম হবে।

এ সময় চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)-এর চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন, মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এম এ আজিজসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।