tanaka

রিয়াদে হামলার সতর্কতা জারির পরপরই বিস্ফোরণের শব্দ

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে বিমান হামলার সতর্কতা জারির পরপরই ভোরে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া যায়নি।...
প্রচ্ছদখেলাফিফার শেষ ৩ সভাপতিই কেন বিতর্কিত? হাভেলাঞ্জ থেকে ইনফান্তিনোর গল্প

ফিফার শেষ ৩ সভাপতিই কেন বিতর্কিত? হাভেলাঞ্জ থেকে ইনফান্তিনোর গল্প

বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা গত পাঁচ দশকে অর্থ, প্রভাব ও জনপ্রিয়তায় অনেক দূর এগিয়েছে। তবে এই যাত্রায় সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্ব বারবার বিতর্কের মুখেও পড়েছে।

ফিফার সর্বশেষ তিন সভাপতি—জোয়াও হাভেলাঞ্জ, সেপ ব্লাটার ও বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো—প্রত্যেকেই কোনো না কোনো সময় সমালোচনার কেন্দ্রে ছিলেন।

জোয়াও হাভেলাঞ্জ: বাণিজ্যিক সাফল্য, পরে বিতর্ক

১৯৭৪ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত ২৪ বছর ফিফার সভাপতি ছিলেন ব্রাজিলিয়ান জোয়াও হাভেলাঞ্জ। তার সময়ে বিশ্বকাপের পরিধি বাড়ে, সদস্য দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি পায় এবং ফিফার সঙ্গে বড় স্পনসর ও সম্প্রচার প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক শক্তিশালী হয়।

তবে বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের এই সময়েই তার নাম জড়িয়ে পড়ে বড় কেলেঙ্কারিতে। ফিফার সাবেক বিপণন অংশীদার আইএসএলের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

২০১৩ সালে ফিফার নৈতিকতা কমিটির এক প্রতিবেদনে হাভেলাঞ্জের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উল্লেখ করা হয়। প্রতিবেদন প্রকাশের আগে তিনি ফিফার সম্মানসূচক সভাপতির পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

সেপ ব্লাটার: দীর্ঘ শাসন, দুর্নীতির অভিযোগ

১৯৯৮ সালে হাভেলাঞ্জের উত্তরসূরি হিসেবে ফিফার সভাপতি হন সেপ ব্লাটার। ১৭ বছর দায়িত্ব পালনকালে ফিফার আয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্ব ফুটবলে সংস্থাটির প্রভাব আরও বাড়ে।

তবে তার সময়েই ফিফা দুর্নীতির অভিযোগে বড় সংকটে পড়ে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের ভিত্তিতে ফিফার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা গ্রেপ্তার হন।

ব্লাটারের বিরুদ্ধে সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগগুলোর একটি ছিল উয়েফার সাবেক প্রধান মিশেল প্লাতিনিকে ২০ লাখ সুইস ফ্রাঁ অর্থ প্রদান। এ ঘটনায় ফুটবল কার্যক্রম থেকে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছিলেন তিনি।

জিয়ান্নি ইনফান্তিনো: সংস্কারের প্রতিশ্রুতি, নতুন বিতর্ক

২০১৬ সালে ফিফা সভাপতি হন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ব্লাটার যুগের কেলেঙ্কারির পর স্বচ্ছতা ও সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে দায়িত্ব নেন তিনি।

২০১৯ ও ২০২৩ সালে পুনর্নির্বাচিত হওয়া ইনফান্তিনোর বর্তমান মেয়াদ ২০২৭ সাল পর্যন্ত।

তবে তার নেতৃত্ব নিয়েও এখন প্রশ্ন উঠছে। ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ, বিভিন্ন দেশের সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং বড় বাণিজ্যিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।

বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েও সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি হয়। যদিও পরে সেই উদ্যোগ থেকে সরে আসেন তিনি।

ফিফার ইতিহাস বলছে, হাভেলাঞ্জ, ব্লাটার ও ইনফান্তিনোর সময়ে সংস্থাটি অর্থ ও প্রভাবের দিক থেকে শক্তিশালী হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ক্ষমতার ব্যবহার নিয়েও বিতর্ক বারবার সামনে এসেছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ফিফার সেই দীর্ঘ বিতর্কিত ইতিহাসেরই নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।