আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান হওয়ার প্রত্যাশায় দিনভর শোডাউন ও গণসংযোগে ব্যস্ত ছিলেন কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলা বিএনপির নেতা সাইফুল ইসলাম খোকন। নেতাকর্মীদের সামনে দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেছিলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’
কিন্তু সেই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আকস্মিক অসুস্থ হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সাইফুল ইসলাম খোকনের মৃত্যু হয়। তার মেজ ছেলে সাঈদ মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাইফুল ইসলাম খোকন চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক এবং কুমিল্লা উত্তর জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি ছিলেন। গত কয়েক মাস ধরে তিনি চান্দিনা উপজেলার শুহিলপুর ইউনিয়নে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা চালিয়ে আসছিলেন।
জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রতিদিনের মতো সোমবারও নিজের নির্বাচনী এলাকা শুহিলপুর ইউনিয়নে দিনব্যাপী শোডাউন ও গণসংযোগ করেন খোকন। দিনভর কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যায় শালিখা বাজারে আয়োজিত একটি পথসভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন তিনি।
সেখানে তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাকেই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করবেন। এ সময় তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দৃঢ়ভাবে বলেন, ‘আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না।’
পথসভা ও অন্যান্য কর্মসূচি শেষে রাতে বাড়ি ফিরে খাবার খেয়ে ঘুমাতে যান তিনি। পরে রাত আনুমানিক ১২টার দিকে হঠাৎ বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে পরিবারের সদস্যরা তাকে দ্রুত ইলিয়টগঞ্জ বাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান।
সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে পরে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর বাজারের একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত দেড়টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
সাইফুল ইসলাম খোকনের আকস্মিক মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ চান্দিনার রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তার মৃত্যুতে আত্মীয়স্বজন, রাজনৈতিক সহকর্মী, নেতাকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে গভীর শোক ও বেদনা বিরাজ করছে।
শুহিলপুর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি মোস্তফা আহমেদ বলেন, ‘তার খুব ইচ্ছে ছিল এবারের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার। সোমবার আমাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি পুরো ইউনিয়নে শোডাউন ও গণসংযোগ করেছেন। এরপর রাত দেড়টার দিকে ফোন আসে, তিনি আর নেই। তার এমন মৃত্যু মেনে নেওয়া সত্যিই কঠিন।’
চান্দিনা উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মাওলানা আবুল খায়ের বলেন, সাইফুল ইসলাম খোকন উপজেলা বিএনপির একজন পরীক্ষিত নেতা ছিলেন। আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য আতিকুল আলম শাওন শুহিলপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে খোকনকে মনোনয়ন দেবেন—এমন বিশ্বাস থেকেই তিনি নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয় ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘শোডাউনে গিয়ে তিনি নেতাকর্মীদের আশ্বস্ত করে গর্বের সঙ্গে বলেছিলেন, আমি বেঁচে থাকতে কেউ আমাকে নির্বাচন থেকে সরাতে পারবে না। এমন কথা বলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার মৃত্যুর খবর আমাদের বাকরুদ্ধ করে দিয়েছে।’
কুমিল্লা-৭ আসনের সংসদ সদস্য ও চান্দিনা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আতিকুল আলম শাওন বলেন, ‘সাইফুল ইসলাম খোকন আমার মরহুম পিতার সময়কাল থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তার মৃত্যুতে শুহিলপুর ইউনিয়নসহ উপজেলা বিএনপির রাজনীতিতে একটি বড় শূন্যতা সৃষ্টি হবে।’



