tanaka
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকযুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় কানাডা

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কার মধ্যেই দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর কানাডার আরোপ করা পাল্টা শুল্ক মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে নতুন কোনো বাণিজ্যচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।

কানাডার নতুন পাল্টা শুল্ক যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার মূল্যের পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে। মার্কিন ইস্পাত, আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন পণ্য এর আওতায় রয়েছে। কোনো কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

২০২৫ সালে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রভাব নিয়ে দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।

বর্তমানে কানাডার গাড়ি ও ট্রাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাঠের ওপরও মার্কিন শুল্ক রয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরও কয়েকটি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেন। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল, হকি স্টিক ও পারফিউম।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি পাল্টা শুল্ককে ‘ডলার-ফর-ডলার’ ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত পণ্যের ওপর এসব শুল্ক কার্যকর হয়।

দুই দেশের কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন, তারা একটি বাণিজ্যচুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। কিন্তু আগস্টের শেষ দিকে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এখনো তা পুনরায় শুরুর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এরই মধ্যে সোমবার কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বারডিয়ারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিন্ন করার হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। প্রতিষ্ঠানটি উৎপাদন কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে না নিলে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলে তিনি জানান। কানাডার অন্যতম বড় এই প্রতিষ্ঠানটির পরামর্শক হিসেবে কাজ করা হিসাবরক্ষণ প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে কানাডার অর্থনীতিতে বোম্বারডিয়ারের অবদান ছিল ৭ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বেশি।

সপ্তাহান্তে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একাধিক পোস্টে কানাডার সমালোচনা করেন ট্রাম্প। একটি পোস্টে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যকার বিনিময় হারকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এর আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি কিছু গাড়ি ও ট্রাকের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে আসছে কানাডা। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ইউএসএমসিএর শর্ত পূরণ না করা যানবাহনের ক্ষেত্রে এসব শুল্ক প্রযোজ্য।

জনমত জরিপে দেখা গেছে, অধিকাংশ কানাডীয় নাগরিকই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের পক্ষে। তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, নতুন শুল্কের কারণে পোশাক, খাদ্য ও আসবাবপত্রের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যেতে পারে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বহুমুখী করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।