tanaka
প্রচ্ছদসারাদেশবিছানায় বন্দি হাসিনা, কিডনি প্রতিস্থাপনে দরকার ১০ লাখ টাকা

বিছানায় বন্দি হাসিনা, কিডনি প্রতিস্থাপনে দরকার ১০ লাখ টাকা

আলমারির গায়ে ধুলোর আস্তরণ। ঘরের এক পাশে জমেছে মাকড়সার জাল। জানালা দিয়ে প্রতিদিন আলো ঢোকে, আর সেই আলোয় বিছানায় শুয়ে বাইরের পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে থাকেন হাসিনা পারভীন বিউটি। ঘরটি পরিষ্কার করতে ইচ্ছে করে, সংসারের চেনা কাজগুলোতে ফিরতে মন চায়। কিন্তু শরীর আর সায় দেয় না।

দীর্ঘ চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। তবে সুস্থ হয়ে নয়, বরং বিছানাকেই এখন নিত্যসঙ্গী করে। ৪৬ বছর বয়সী হাসিনা একসময় হাসিমুখে সংসারের প্রতিটি দায়িত্ব সামলাতেন। রাজশাহী কলেজ থেকে রসায়নে স্নাতকোত্তর করা এই নারী আজ নিজের স্বাভাবিক জীবনটুকু ফিরে পাওয়ার জন্যই লড়ছেন।

তার দুই কিডনিই নষ্ট হয়ে গেছে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ডায়ালাইসিস প্রয়োজন। কিন্তু অর্থের সংকটে সেই চিকিৎসাও ঠিকমতো চালিয়ে যেতে পারছেন না তিনি।

সংসারের হাল ধরা সেই মানুষটি আজ অসহায়

হাসিনার স্বামী সাংবাদিক মো. বদরুল হাসান লিটন। পেশার কারণে দিনের বড় একটি সময় তাকে সংবাদ সংগ্রহের কাজে বাইরে কাটাতে হয়েছে। সেই সময়ে সংসারের পুরো দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন হাসিনা।

সংসারে বাজার না থাকলে হিসাব করে চলেছেন, প্রয়োজন মিটিয়েছেন, সন্তানদের পড়াশোনা থেকে শুরু করে ঘরের প্রতিটি বিষয় সামলেছেন। বছরের পর বছর এভাবেই চলেছে তাদের সংসার।

কিন্তু আজ পরিস্থিতি পুরোপুরি বদলে গেছে। যে নারী একসময় পরিবারের সবার প্রয়োজন মেটাতেন, এখন তার চিকিৎসার খরচ জোগাড় করাই পরিবারের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সপ্তাহে দুদিন ডায়ালাইসিস করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসক। ডায়ালাইসিসসহ তার চিকিৎসায় প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা প্রয়োজন। সীমিত আয়ের সাংবাদিক স্বামীর পক্ষে এই ব্যয় নিয়মিত বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে সপ্তাহে একদিন ডায়ালাইসিস করিয়েই কোনোভাবে চিকিৎসা চালিয়ে নিতে হচ্ছে।

একদিকে স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয়, অন্যদিকে দুই সন্তানের পড়াশোনা ও সংসারের খরচ—সব মিলিয়ে কঠিন সময় পার করছে পরিবারটি।

ভাইয়ের কিডনি মিলেছে, বাধা এখন অর্থ

হাসিনার জন্য আশার খবরও এসেছে। তার বড় ভাই হারুন অর রশিদ বোনকে একটি কিডনি দিতে প্রস্তুত হয়েছেন। প্রাথমিক পরীক্ষায় তার কিডনিও উপযুক্ত বলে জানা গেছে।

পরিবারের জন্য এটি নিঃসন্দেহে বড় আশার খবর। কিন্তু কিডনি প্রতিস্থাপন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য প্রায় ১০ লাখ টাকা প্রয়োজন। অর্থের অভাবেই এখন সেই চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না।

পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী গয়না বিক্রি করে প্রায় ৩ লাখ টাকা সংগ্রহের চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু বাকি প্রায় ৭ লাখ টাকা কোথা থেকে আসবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন হাসিনার স্বামী।

রাজশাহীর সাংবাদিকতা অঙ্গনে পরিচিত লিটনের কাছে এখন প্রতিটি টাকার হিসাব যেন স্ত্রীকে বাঁচিয়ে রাখার হিসাব।

মায়ের অপেক্ষায় দুই মেয়ে

বিছানায় শুয়ে থাকা মায়ের চারপাশে ঘোরে তার দুই মেয়ে। মায়ের অসুস্থতা তাদের স্বাভাবিক জীবনেও ছায়া ফেলেছে।

ছোট মেয়েটির চাওয়া খুব বেশি কিছু নয়। সে চায়, মা আবার আগের মতো তাকে বকাঝকা করুক। চুলে তেল দিয়ে ঝুঁটি করে দিক। নখে নেলপালিশ লাগিয়ে দিক। মায়ের বকা খেতেও আপত্তি নেই তার। শুধু মাকে আগের মতো সুস্থ দেখতে চায় সে।

মেয়েদের দিকে তাকিয়ে হাসিনারও হয়তো সেই পুরোনো দিনগুলোতে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে—যখন ঘর গোছানো, সন্তানদের দেখাশোনা আর পরিবারের সবাইকে নিয়ে ব্যস্ত থাকাই ছিল তার প্রতিদিনের জীবন।

২৩ বছরের সংসার এখন মানুষের সহযোগিতার অপেক্ষায়

হাসিনা ও লিটনের ২৩ বছরের সংসার। এতটা সময় পেরিয়ে গেছে নানা অভাব-অনটন, দায়িত্ব ও ব্যস্ততার মধ্য দিয়ে। লিটন ছুটেছেন সংবাদের পেছনে, আর হাসিনা সামলেছেন ঘর ও সন্তানদের।

আজ সেই পরিবারকেই স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য মানুষের সহযোগিতা চাইতে হচ্ছে।

পরিবারের পক্ষ থেকে রাজশাহীসহ দেশের হৃদয়বান মানুষের কাছে সহায়তার আবেদন জানানো হয়েছে। তাদের আশা, একজনের পক্ষে পুরো অর্থের ব্যবস্থা করা কঠিন হলেও অনেক মানুষের সামান্য সহযোগিতা একত্র হলে প্রয়োজনীয় ১০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা সম্ভব হবে।

সহায়তা পাঠানোর ব্যাংক তথ্য:

  • হিসাব নম্বর: ১১০১০০৭৪০৭৯৮০
  • হিসাবের নাম: মো. বদরুল হাসান
  • ব্যাংক: যমুনা ব্যাংক, রাজশাহী ব্রাঞ্চ

হাসিনার চাওয়া খুব সাধারণ—আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান তিনি। মেয়েদের চুলে তেল দিয়ে ঝুঁটি করে দিতে চান, ঘরের ধুলো মুছে আলমারি পরিষ্কার করতে চান, সংসারের পরিচিত ব্যস্ততায় ফিরে যেতে চান।

তার সেই স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পথে এখন সবচেয়ে বড় বাধা প্রায় ১০ লাখ টাকা।

এই অর্থ পরিবারের কাছে শুধু চিকিৎসার খরচ নয়; এটি একজন মায়ের সন্তানদের কাছে ফিরে আসার আশা, একজন স্ত্রীর স্বামীর পাশে দাঁড়ানোর সুযোগ এবং একজন মানুষের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা।