tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়অক্টোবরে ফিরতে পারে ভারত-বাংলাদেশের বন্ধ যাত্রীবাহী ট্রেন

অক্টোবরে ফিরতে পারে ভারত-বাংলাদেশের বন্ধ যাত্রীবাহী ট্রেন

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল আবারও শুরু হতে পারে। মৈত্রী এক্সপ্রেসসহ দুই দেশের মধ্যে চলাচল করা বন্ধ ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে রেলপথ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি জানান, যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালুর বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা এগিয়ে চলছে এবং অল্প সময়ের মধ্যেই একটি নির্দিষ্ট তারিখ জানানো সম্ভব হবে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, বিমানপথে যাতায়াতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জন্য সড়ক ও রেল যোগাযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে রেলকে তিনি সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী পরিবহন হিসেবে উল্লেখ করেন।

রেল যোগাযোগের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি ভারতের ‘গরিব রথ’ ট্রেনের উদাহরণও তুলে ধরেন। তার মতে, সমাজের সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ রেলপথে যাতায়াতের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল।

মৈত্রী এক্সপ্রেস নিয়ে আসতে পারে সুখবর

দুই দেশের মধ্যে যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ থাকলেও মালবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। তার ভাষ্য, মালবাহী ট্রেনের সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার বিষয়টি দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কের অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।

তিনি বলেন, এখন লক্ষ্য হচ্ছে বাণিজ্য ও যোগাযোগ আরও কীভাবে বাড়ানো যায়, সেটি নিয়ে কাজ করা। একই সঙ্গে মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর বিষয়ে শিগগিরই একটি ইতিবাচক ঘোষণা আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।

কবে থেকে ট্রেন চলাচল শুরু হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী জানান, আলোচনা এখনও চলছে। তবে খুব শিগগিরই একটি নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা সম্ভব হবে।

যোগাযোগব্যবস্থা দ্রুত করার উদ্যোগ

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে যাতায়াতের সময় কমানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান ভারতীয় হাইকমিশনার। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বর্তমানে কোনো কোনো রুটে যাতায়াতে ছয় থেকে সাত ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে। বিভিন্ন অবকাঠামোগত ও কারিগরি উদ্যোগের মাধ্যমে সেই সময় কয়েক ঘণ্টা কমিয়ে আনার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে দুই দেশের যোগাযোগ আরও দ্রুত ও কার্যকর করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে বলে জানান তিনি।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে বৈঠক ও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এসব আলোচনার মধ্যেই যাত্রীবাহী ট্রেন চালুর বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।

বাণিজ্য ও যোগাযোগ বাড়াতে গুরুত্ব

বৈঠকে ভারতের সঙ্গে চলমান বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান রেলপথ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

তিনি বলেন, প্রতিবেশী দেশ ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশে একাধিক খাতে কাজ চলমান রয়েছে। দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থ রক্ষা করে বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক কীভাবে আরও সম্প্রসারিত করা যায়, সে বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।

বিশেষ করে রেল, সড়ক ও স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নের বিষয়টি বৈঠকে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী আরও বলেন, দুই দেশের মধ্যে মালবাহী ট্রেন চলাচল অব্যাহত রয়েছে এবং এ খাতে পরিবহন সক্ষমতাও বাড়ছে। ভবিষ্যতে এই সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।

নিরাপত্তার কারণে বন্ধ হয়েছিল যাত্রীবাহী ট্রেন

যাত্রীবাহী ট্রেন বর্তমানে বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, ভারতের পক্ষ থেকে নিরাপত্তাজনিত কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ করা হয়েছিল। তবে এখন দুই দেশই এটি পুনরায় চালুর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ইতিবাচকভাবে চিন্তা করছে।

তিনি জানান, কীভাবে নিরাপত্তা নিশ্চিত করে যাত্রীবাহী ট্রেন আবার চালু করা যায়, সে বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।

অক্টোবরে চালুর সম্ভাবনা

ভারতের সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই বছরের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আগামী অক্টোবর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আন্তঃদেশীয় তিনটি যাত্রীবাহী ট্রেন পুনরায় চালু হতে পারে।

২০২৪ সালে দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে অস্থিরতা দেখা দেওয়ার পর থেকে মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস ও মিতালী এক্সপ্রেসের চলাচল বন্ধ রয়েছে।

দুই দেশের সাম্প্রতিক আলোচনা ও কর্মকর্তাদের বক্তব্যে ট্রেনগুলো পুনরায় চালুর বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত ট্রেন চলাচলের চূড়ান্ত সময়সূচি নিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।