tanaka

ইউএনও কার্যালয়ে হাসিমুখে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ, নারী কর্মকর্তাকে বদলি

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সেবাগ্রহীতার কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফরোজা চৌধুরীকে বদলি করা হয়েছে। তাকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলা...
প্রচ্ছদসারাদেশআমাকে মারবা ঠিক আছে, বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে আসি’ স্ত্রীকে নির্যাতনের পর মরদেহ...

আমাকে মারবা ঠিক আছে, বাচ্চাদের ঘুম পাড়িয়ে আসি’ স্ত্রীকে নির্যাতনের পর মরদেহ উদ্ধার, স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানীর খিলক্ষেতে স্ত্রী মুক্তা ইসলামকে শিকল দিয়ে বেঁধে বেল্ট দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী সোহেল শিকদারের (৩১) বিরুদ্ধে। নির্যাতনের একটি ভিডিও মুক্তার ভাইয়ের মোবাইলে পাঠিয়ে সোহেল লিখেছিলেন, ‘তোমার বোনকে নিয়ে যাও।’ পরে বাসা থেকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় মুক্তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্বজনরা।

এ ঘটনায় খিলক্ষেত থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার মূল অভিযুক্ত সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, ঘটনার দিন মুক্তার পা শিকল দিয়ে বেঁধে বেল্ট দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন সোহেল। মায়ের ওপর এমন নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে পাশের ঘরে থাকা তাদের দুই শিশুসন্তান সাফওয়ান (৫) ও তাসফিয়া (৪) কান্নায় ভেঙে পড়ে।

এ সময় সন্তানদের কান্না থামানোর জন্য মুক্তা স্বামীর কাছে অনুনয় করে বলেন, ‘আমাকে মারবা ঠিক আছে, শুধু দুই বাচ্চারে ঘুম পাড়িয়ে আসি।’ তবে তার আকুতিতেও নির্যাতন বন্ধ হয়নি বলে অভিযোগ পরিবারের।

নিহতের পরিবারের দাবি, যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া এবং পরকীয়ার সন্দেহে কয়েক মাস ধরে মুক্তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন সোহেল। তাদের অভিযোগ, নির্যাতনের পর মুক্তাকে হত্যা করে ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে সাজানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

অভিযুক্ত সোহেলের ধারণ করা প্রায় তিন মিনিটের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বেল্ট দিয়ে মুক্তাকে মারধরের সময় অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। মুক্তা নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বারবার আকুতি জানালেও নির্যাতন থামেনি।

ভিডিওতে সোহেলকে বলতে শোনা যায়, ‘কথা ক, কথা ক, তোরে আজ পিটাইয়া মাইরা ফালামু। তোকে আমি ছাড়ব না।’ একপর্যায়ে মুক্তা বলেন, ‘আমি কিছু করিনি। আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।’ এরপরও মারধর চলতে থাকে বলে অভিযোগ।

বরিশালের বাকেরগঞ্জের বাসিন্দা মুক্তার সঙ্গে একই এলাকার সোহেল শিকদারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। পরিবার জানায়, খিলক্ষেতে মুদি ও এমব্রয়ডারি ব্যবসায় ব্যর্থ হওয়ার পর সোহেল যৌতুকের জন্য চাপ দিতে শুরু করেন এবং মুক্তার ওপর নির্যাতন চালাতেন।

মুক্তার ভাই তানভীর রহমান বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই স্বজনরা তার বোনের মরদেহ সিলিং ফ্যান থেকে নামিয়ে ফেলেন। তিনি অভিযোগ করেন, কয়েক মাস আগে সোহেল তার কাছে তিন লাখ টাকা চেয়েছিলেন। টাকা দিতে দেরি হওয়ায় মুক্তাকে মারধর করা হতো।

তিনি বলেন, ‘মাকে হারিয়ে তার দুই সন্তান সারা দিন কান্নাকাটি করছে। তারা বারবার বলছে, বাবা মাকে মেরে ঝুলিয়ে রেখেছে। এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

তানভীর আরও বলেন, ‘আমরা চার ভাই-বোন। ছোটবেলায় বাবা মারা যান। মা অনেক কষ্ট করে আমাদের বড় করেছেন। মায়ের কষ্টের কথা চিন্তা করে আমার বোন অনেক নির্যাতনের কথাই গোপন রাখতেন। নির্যাতন সহ্য করার পরও মৃত্যুর আগে পুলিশের কাছে যাননি।’

মুক্তার মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন তানভীর রহমান। এজাহারে অভিযোগ করা হয়, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে সোহেল দীর্ঘদিন ধরে মুক্তার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন।

এজাহার অনুযায়ী, সর্বশেষ গত ৩০ আগস্ট মুক্তাকে বেল্ট দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এতে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওই দিনের নির্যাতনের ভিডিও মুক্তার এক স্বজনের কাছে পাঠিয়ে তাকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

পরে গত বৃহস্পতিবার মুক্তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়ার খবর পান স্বজনরা।

খিলক্ষেত থানার ওসি মুহাম্মাদ সোহরাব আল হোসাইন জানান, গৃহবধূকে মারধরের ভিডিওটি তার মৃত্যুর তিন দিন আগের। ঘটনার মূল অভিযুক্ত সোহেল শিকদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।