নবম জাতীয় পে স্কেলে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীদের পেনশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের স্বস্তি দিতে নিট পেনশন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে সবার পেনশন একই হারে বাড়ছে না।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, যাদের বর্তমান পেনশনের পরিমাণ কম, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার তুলনামূলক বেশি রাখা হয়েছে। বিপরীতে যাদের পেনশনের পরিমাণ বেশি, তাদের ক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার অপেক্ষাকৃত কম হবে।
এদিকে বহুল আলোচিত নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ‘এক পদ এক পেনশন’ বা ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ (ওআরওপি) পুরোপুরি এখনই কার্যকর হচ্ছে না। সামরিক ও বেসামরিক—উভয় খাতের অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের জন্য এই ব্যবস্থা ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রিসভা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, একযোগে ওআরওপি বাস্তবায়নে বিপুল পরিমাণ আর্থিক সংস্থানের প্রয়োজন হবে। পাশাপাশি ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য ও ডেটার ঘাটতিও রয়েছে। এসব কারণেই একসঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে সামরিক ও বেসামরিক—উভয় খাতেই ‘এক গ্রেড এক পেনশন’ কার্যকর করার অঙ্গীকার ছিল। এর মূল লক্ষ্য হলো ভিন্ন সময়ে একই পদ বা গ্রেড থেকে অবসর নেওয়া কর্মচারীদের মধ্যে বিদ্যমান পেনশন বৈষম্য কমিয়ে আনা।
বর্তমান ব্যবস্থায় বহু বছর আগে অবসরে যাওয়া একজন কর্মচারী একই পদ থেকে সাম্প্রতিক সময়ে অবসর নেওয়া কর্মচারীর তুলনায় কম পেনশন পাচ্ছেন। ওআরওপি কার্যকর হলে একই পদ বা গ্রেডের অবসরপ্রাপ্তদের মধ্যে এই বৈষম্য অনেকাংশে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানিয়েছেন, সামরিক ও বেসামরিক—উভয় বিভাগেই একই ধরনের ওআরওপি ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এটি একযোগে বাস্তবায়নের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালের আগে অবসরে যাওয়া বেসামরিক কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় তথ্য সরকারের কাছে পর্যাপ্তভাবে সংরক্ষিত না থাকায় একসঙ্গে এই ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণে ২০৩০ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে ওআরওপি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



