tanaka

নিরাপত্তা পরিষদের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন, দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জি-৪-এর

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্ন তুলে দ্রুত সংস্কারের আহ্বান জানিয়েছে জি-৪ জোট। ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপান নিয়ে গঠিত এই জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা...
প্রচ্ছদইসলাম ও জীবননবীজির পছন্দ করতেন যে ৮ খাবার

নবীজির পছন্দ করতেন যে ৮ খাবার

নবীজি হজরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবন ছিল ভারসাম্য, পরিমিতি ও পবিত্রতার অনুপম দৃষ্টান্ত। খাদ্যাভ্যাসও এর ব্যতিক্রম ছিল না। তিনি সহজলভ্য, প্রাকৃতিক ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতেন, যা অপচয় ও বিলাসিতা মুক্ত। প্রতিটি খাবারের পেছনে ছিল সুদূরপ্রসারী কল্যাণ ও জৈবিক প্রয়োজনের সুক্ষ্ম হেকমত। নবীজির খাদ্যাভ্যাস কেবল উদরপূর্তি নয়, এটি দেহ ও মনকে সুস্থ রাখার এক নিখুঁত পদ্ধতি।

নিচে তাঁর প্রিয় আটটি খাবারের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

১. লাউ- লাউতে ভিটামিন সি, বি ও ডি, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও আয়রন থাকে। এটি হজম সহজ করে, কোষ্ঠকাঠিন্য ও অর্শ প্রতিরোধে সহায়তা করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।

২. খরবুজ– হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) খরবুজ খেতেন খেজুরের সঙ্গে মিলিয়ে, যা উষ্ণতা ও শীতের ভারসাম্য বজায় রাখে। খরবুজে প্রচুর প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ থাকে। এটি কিডনি, চোখ ও ডায়াবেটিসের জন্য উপকারী, কোষ্ঠকাঠিন্য ও মূত্রাশয়ে সংক্রমণ কমায়।

৩. তরমুজ- রাসুল (সা.) আগ্রহের সঙ্গে তরমুজ খেতেন। এতে পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন এ ও সি, সিট্রুলিন, লাইকোপেন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। তরমুজ শক্তি বৃদ্ধি, পানিশূন্যতা দূর, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও কিডনি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।

৪. পিলু ফল- জাবের ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি কেবল কালোগুলো কুড়াতেন। পিলুতে সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম এবং দাঁতের জন্য ফ্লোরিন থাকে। এটি রক্ত পড়া কমায়, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং ওরাল ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক।

৫. শসা- রাসুল (সা.) শসার সঙ্গে খেজুর মিশিয়ে খেতেন। শসা ভিটামিন কে, বি, সি, কপার, পটাশিয়াম ও ম্যাঙ্গানিজ সমৃদ্ধ। এটি হজম, ওজন নিয়ন্ত্রণ, হৃদরোগ, মানসিক চাপ কমানো ও ত্বক ও চোখের স্বাস্থ্য রক্ষায় সাহায্য করে।

৬. দুধ- রাসুল (সা.) খাঁটি দুধ পান করতেন অথবা পানি ও খেজুর/কিশমিশ মিশিয়ে। দুধে প্রোটিন, ভিটামিন এ, ডি, বি১২, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফসফরাস থাকে। এটি পেশি শক্ত ও শরীর সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।

৭. মধু- হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) মিষ্টি ও মধু পছন্দ করতেন। মধুতে ফ্রুক্টোজ, গ্লুকোজ, বিভিন্ন ভিটামিন, খনিজ, অ্যামিনো অ্যাসিড ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান থাকে। এটি শরীরের পুষ্টি ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

৮. কালিজিরা- খালিদ ইবনে সাদ (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি বলেন, “কালিজিরা মৃত্যু ছাড়া সব রোগের ওষুধ।” এতে ভিটামিন, প্রোটিন, ফাইবার, আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। এটি স্বাস্থ্য রক্ষা ও রোগ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ।

নবীজি (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাস কেবল উদরপূর্তির জন্য ছিল না, বরং তা দেহ ও মনকে সুস্থ ও ছন্দময় রাখার এক অপূর্ব পদ্ধতি।