দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নির্দেশ দিয়েছেন, যেকোনো মূল্যে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং বাজারে আতঙ্ক ছড়ানো যাবে না।
শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দেন। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য রহমান অমিত এবং জ্বালানি সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা।
বৈঠকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দিলে তা নাকচ করেন প্রধানমন্ত্রী। কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল বিক্রি করে সরকারের ১৮–২০ টাকা লোকসান হচ্ছে। তবে প্রধানমন্ত্রী দাম বাড়ানোর পরিবর্তে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং বাজারে স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন।
জ্বালানি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, দেশে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ৯ মার্চ দুটি জাহাজে ডিজেল দেশে পৌঁছাবে এবং পরে আরও দুটি জাহাজ আসবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালি আংশিকভাবে চালু হলে আন্তর্জাতিক বাজারেও পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, কোনোভাবেই তেলের মজুতদারি হবে না। প্রয়োজনে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জ্বালানিমন্ত্রী জানান, দেশে ডিজেল, অকটেন ও পেট্রোল পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং জনগণের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। তিনি সবাইকে অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করার আহ্বান জানান।
মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, সরকারি নির্ধারিত দামের বেশি তেল বিক্রি করলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রবিবার থেকে সারা দেশের ফিলিং স্টেশনগুলোতে অভিযান শুরু করা হবে, যাতে নিশ্চিত করা যায় তারা নিয়মমতো তেল সরবরাহ করছে।



