tanaka

ভরিতে সোনার দাম বাড়লো ২১৫৮ টাকা

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম বাড়ানো হয়েছে...
প্রচ্ছদসর্বশেষ সংবাদঅর্থনীতিনতুন সরকারের প্রথম বাজেটে ‘নতুনত্ব’ চান ব্যবসায়ীরা

নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে ‘নতুনত্ব’ চান ব্যবসায়ীরা

দেশে ব্যবসা সম্প্রসারণে নতুন সরকারের প্রথম বাজেটে ‘কিছুটা হলেও’ নতুনত্ব দেখতে চান ব্যবসায়ীরা। এবারের বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে বড় বরাদ্দের পাশাপাশি উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে নতুন উদ্যোগের প্রত্যাশা করছেন তারা। এক্ষেত্রে ৩০ বছরের নিচের উদ্যোক্তাদের পাঁচ বছরের করমুক্ত সুবিধাকে নতুনত্ব হিসেবে দেখছেন কোনো কোনো ব্যবসায়ী।

তাদের মতে, বাজেটে এমন উদ্যোগ থাকতে হবে যা ব্যবসায়ীদের আস্থা বাড়াবে ও বিনিয়োগে উৎসাহ দেবে। একইসঙ্গে নতুন করে করের বোঝা না বাড়িয়ে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর উদ্যোগও প্রয়োজন।ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, উচ্চাভিলাষী বাজেটের চেয়ে বর্তমান বাস্তবতায় ব্যবসাবান্ধব ও স্থিতিশীল নীতিই এখন বেশি জরুরি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধসহ দেশি-বিদেশি নানা বাস্তবতায় এবারের বাজেটে বড় কোনো ছাড় মিলবে না বলেও মনে করছেন তারা। দেশের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলে এমন প্রত্যাশার কথা জানা গেছে।নতুন সরকারের প্রথম বাজেট নিয়ে প্রত্যাশার বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমরা একটি বাস্তবমুখী বাজেট প্রত্যাশা করি-যেখানে উচ্চাভিলাষী ঘোষণা নয়, বাস্তবায়নযোগ্য পদক্ষেপকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবসাবান্ধব নীতি অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে করহার স্থিতিশীল রাখা, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজ করা ও অপ্রয়োজনীয় দামবৃদ্ধি ও রেগুলেটরি বাধা কমানো প্রয়োজন, যাতে উদ্যোক্তারা স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।’তিনি বলেন, ‘অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ থাকা দরকার-যেখানে রপ্তানি বহুমুখীকরণ, এসএমই খাতের জন্য সহজ ঋণপ্রাপ্তি ও উৎপাদন খাতে প্রণোদনা থাকবে। একইসঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন ও লজিস্টিক খরচ কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে দ্রুত পদক্ষেপ জরুরি। খেলাপি ঋণ কমাতে কঠোর নজরদারি, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিগত স্বাধীনতা ও কার্যকারিতা বাড়ানো প্রয়োজন। সব মিলিয়ে, এই বাজেট যেন হয় স্থিতিশীলতা, আস্থা ও প্রবৃদ্ধির ভিত্তি গড়ার একটি কার্যকর দিকনির্দেশনা।’বাজেটে এবার ব্যবসায়ীরা বড় কোনো সুবিধা প্রত্যাশা করছেন না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজের (বিসিআই) সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ‘সরকারের বয়স মাত্র প্রায় তিন মাস। এরইমধ্যে বৈশ্বিক সংকট শুরু হয়েছে। ফলে এবার বাজেটে সরকার খুব বেশি নতুনত্ব বা চমক দেখাতে পারবে এমনটি প্রত্যাশা করা ঠিক নয়।’

আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী পারভেজ জাগো নিউজকে বলেন, ‘নতুন করে করের বোঝা না বাড়িয়ে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমানোর উদ্যোগ আমরা দেখতে চাই। এনবিআরের করজাল বাড়ানো না গেলে একই করদাতাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়। এতে যারা নিয়মিত কর দিচ্ছেন, তারাই আরও বেশি চাপের মধ্যে পড়ে যান। ব্যবসায়ীরা চান করের হার বা চাপ বাড়ানোর পরিবর্তে করজাল সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হোক। বাজেটে আমরা সেই প্রতিফলনই দেখতে চাই।’তিনি আরও বলেন ‘মানুষ চায় জিনিসপত্রের দাম কমুক, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক। আর ব্যবসায়ীরা দেখতে চান ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ কতটা অনুকূলে যাচ্ছে। বিশেষ করে জ্বালানি নিরাপত্তা, জ্বালানির দাম, লজিস্টিক খরচ ও ব্যাংক সুদের হার কোন দিকে যাচ্ছে, সেগুলো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে উচ্চ সুদহার ও ব্যবসার ব্যয় বৃদ্ধি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বড় চাপ তৈরি করছে। সরকার যদি অতিরিক্তভাবে ব্যাংকিং খাত থেকে ঋণ নেয়, তাহলে বেসরকারি খাত পর্যাপ্ত অর্থায়ন থেকে বঞ্চিত হতে পারে। এ কারণে সরকার কীভাবে বিকল্প উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করবে, সে বিষয়েও ব্যবসায়ীরা স্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেখতে চান।’