-
গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান ও গণহত্যার অভিযোগের প্রতিবাদে সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকারের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে ইসরাইলে আবারও কয়লা রপ্তানির অনুমোদন দিয়েছে কলম্বিয়ার নতুন ডানপন্থি সরকার।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট অ্যাবেলার্দো দে লা এসপ্রিয়েয়ার উপস্থিতিতে রপ্তানি অনুমোদনের নির্বাহী আদেশ কার্যকরের ঘোষণা দেন দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রী মাউরিসিও গোমেজ আমিন। দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তকে ইসরাইলের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পেত্রো সরকারের নিষেধাজ্ঞা
গাজায় ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ এবং বিশেষ করে রাফাহ অঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) নির্দেশনা অনুযায়ী ইসরাইলি বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রোর সরকার ইসরাইলে কয়লা রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল।
২০২৪ সালের মে মাসে গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদে ইসরাইলের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত করেন পেত্রো। একই বছরের আগস্টে তাপীয় কয়লা রপ্তানিতে প্রথম দফায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের আগস্টে বিদ্যমান চুক্তিগুলো বাতিল করে ইসরাইলে কয়লা রপ্তানিতে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
নিষেধাজ্ঞার আগে ইসরাইলে কয়লা সরবরাহের ক্ষেত্রে কলম্বিয়া ছিল প্রধান দেশগুলোর একটি। আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যান সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের প্রথমার্ধে ইসরাইলে ব্যবহৃত মোট তাপীয় কয়লার প্রায় ৬০ শতাংশই কলম্বিয়া থেকে সরবরাহ করা হয়েছিল।
ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের উদ্যোগ
বাণিজ্যমন্ত্রী মাউরিসিও গোমেজ আমিন পেত্রো সরকারের কয়লা রপ্তানি নিষেধাজ্ঞাকে রাজনৈতিক ও আদর্শিক সিদ্ধান্ত হিসেবে উল্লেখ করে তা বাতিল করেন।
নতুন প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েয়া নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই ইসরাইলের সঙ্গে কলম্বিয়ার সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। গত ৭ আগস্ট দায়িত্ব গ্রহণের পর তার সরকার ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর মধ্যে রয়েছে ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন, অধিকৃত গোলান মালভূমির ওপর ইসরাইলের সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্যোগ এবং কলম্বিয়ার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরের প্রক্রিয়া শুরু করা।
কয়লা রপ্তানি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে পেত্রো সরকারের ইসরাইলবিরোধী বাণিজ্যিক চাপের নীতি থেকে সরে এসে নতুন প্রশাসন ইসরাইলের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করার পথেই এগোচ্ছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।



