tanaka
প্রচ্ছদটপ নিউজএমসিসিআই’র পর্যবেক্ষণ: অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার সংকেত, কিন্তু চ্যালেঞ্জ এখনও বহাল

এমসিসিআই’র পর্যবেক্ষণ: অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতার সংকেত, কিন্তু চ্যালেঞ্জ এখনও বহাল

বাংলাদেশের অর্থনীতি স্থিতিশীলতার দিকে এগুচ্ছে, তবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ এখনও টিকে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ এবং বিনিয়োগ কমেছে, রপ্তানি স্থবির রয়েছে, রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতি রয়েছে এবং ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও বাড়ছে। তবে রেমিট্যান্স ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি কিছু শিথিলতার সুযোগ দিয়েছে।

মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (এমসিসিআই) ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা প্রতিবেদনে এসব বিষয় উঠে এসেছে যা মঙ্গলবার প্রকাশিত হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উন্নয়নশীল অনেক দেশের তুলনায় বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহ কম। যদিও শ্রম খরচ কম হওয়ায় বাংলাদেশে বিনিয়োগ আকর্ষণীয়, কিন্তু অবকাঠামোগত দুর্বলতা, জ্বালানি সংকট, দুর্বল সঞ্চালন ব্যবস্থা, নীতি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অব্যবস্থাপনা, জমির সংকট, দুর্নীতি এবং আইন ও বিধিবিধানের অনিয়ম নতুন বিনিয়োগে বাধা দিচ্ছে।

নতুন সরকারের অধীনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে, যার জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগ প্রয়োজন।

বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কমে এসেছে, যা অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগের দুর্বলতার প্রমাণ। তুলনায় সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বেড়েছে। উচ্চ সুদহার, তারল্য সংকট এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে নতুন বিনিয়োগ সক্রিয় হচ্ছে না, যা শিল্প খাতের নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।

রাজস্ব আদায় বড় ঘাটতির মুখে রয়েছে; ২০২৫-২৬ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ১৭.৪% কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। উন্নয়ন ব্যয়ও কমছে, যা গত দশকের সবচেয়ে নিম্ন পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেখা গেছে, নির্বাচনের পর অর্থনীতি রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বৈশ্বিক অবস্থা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। আগামী মাসে রপ্তানি, আমদানি ও রেমিট্যান্স বৃদ্ধি পেতে পারে। মুদ্রাস্ফীতি কিছুটা কমার সম্ভাবনাও আছে, যদিও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ জুলাই-সেপ্টেম্বর মাসে কমতে পারে।

প্রতিবেদন মতে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, আর্থিক খাত শক্তিশালী করা, বেসরকারি বিনিয়োগ ও রপ্তানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক খাতের স্থিতিশীলতা রক্ষা আগামী দিনের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।