-
বিয়ের কাবিননামায় বর ও কনের আগের বিয়ে, সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর তথ্য এবং বিদ্যমান সন্তানের তথ্য বাধ্যতামূলকভাবে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান হাইকোর্টে রিটটি দায়ের করেন। আইন ও বিচার বিভাগের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব এবং নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শককে এতে বিবাদী করা হয়েছে।
কেন এই রিট?
রিটে বলা হয়েছে, মুসলিম বিবাহ ও তালাক (নিবন্ধন) বিধিমালা, ২০০৯-এর অধীন ব্যবহৃত বাংলাদেশ ফরম ১৬০১ বা ‘ঘ’ ফরমের বর্তমান কাবিননামায় আগের বিয়ে ও পারিবারিক সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ ও যাচাইয়ের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই।
এর ফলে কেউ চাইলে—
- আগের বিয়ে বা একাধিক বিয়ের তথ্য গোপন করতে পারেন;
- সাবেক স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয় ও বিবাহবিচ্ছেদের তথ্য না জানিয়ে নতুন বিয়ে করতে পারেন;
- সন্তান বা পূর্ববর্তী পরিবারের আইনগত দায় গোপন করতে পারেন;
- চলমান বৈবাহিক মামলা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আড়াল করতে পারেন।
রিটকারী আইনজীবীর দাবি, এতে নতুন জীবনসঙ্গীর জেনে-বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রতারণার সুযোগ তৈরি হয়।
কাবিননামায় কী কী তথ্য চাওয়া হয়েছে?
প্রস্তাবিত সংশোধনের মধ্যে রয়েছে বর ও কনের পূর্ববর্তী ও বর্তমান বিয়ের তথ্য, স্বামী বা স্ত্রীর পরিচয়, বিয়ে ও তালাকের তারিখ, স্থান ও নিবন্ধন নম্বর এবং সংশ্লিষ্ট দলিলের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা।
এ ছাড়া বিদ্যমান সন্তান এবং তাদের ভরণপোষণ, অভিভাবকত্ব বা অন্যান্য আইনগত দায় সম্পর্কেও ঘোষণা রাখার দাবি করা হয়েছে।
কারও আগের বিয়ে বহাল থাকলে মুসলিম পারিবারিক আইন অধ্যাদেশ, ১৯৬১-এর ৬ ধারা অনুযায়ী সালিশ পরিষদের লিখিত অনুমতির নম্বর ও তারিখ কাবিননামায় উল্লেখ করার প্রস্তাবও রয়েছে।
ডিজিটাল যাচাইয়ের দাবিও
জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট, জন্মনিবন্ধন, বিবাহ ও তালাকের নথি এবং প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে মৃত্যু সনদ যাচাই বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে।
রিটে ২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বরের একটি হাইকোর্টের রায়ের প্রসঙ্গ তুলে বলা হয়েছে, শুধু বিবাহ ও তালাকের রেকর্ড ডিজিটাল করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। মূল কাবিননামায় প্রয়োজনীয় তথ্যের ঘর না থাকলে ডিজিটাল ব্যবস্থাতেও অসম্পূর্ণ তথ্যই সংরক্ষিত হবে।
তাই রিটকারীর মতে, ডিজিটালাইজেশনের পাশাপাশি কাবিননামার ফরম সংশোধন এবং নিবন্ধকদের ওপর তথ্য যাচাইয়ের সুস্পষ্ট দায়িত্ব দেওয়া প্রয়োজন।



