জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে অন্য কারও চিন্তার অনুসারী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং তাঁর সৃষ্টিশীলতা ও চিন্তা নিজেই বহু মানুষকে প্রভাবিত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুগান্তর সম্পাদক, কবি ও নজরুল গবেষক আবদুল হাই শিকদার।
তিনি বলেন, ‘নজরুলকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা কারো ছিল না। নজরুল নিজেই সবাইকে প্রভাবিত করেছেন।’
সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কবির ১২৭তম নজরুল জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুল হাই শিকদার বলেন, নজরুলের সাহিত্য ও রাজনৈতিক চিন্তাকে শুধু কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা মতাদর্শের প্রভাব হিসেবে দেখলে তাঁর সৃষ্টিশীলতার প্রকৃত ব্যাপ্তি বোঝা সম্ভব নয়।
নজরুলের রাজনৈতিক চেতনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, রুশ বিপ্লব, সাম্যবাদী চিন্তা ও শ্রমজীবী মানুষের অধিকার নিয়ে নজরুলের নিজস্ব উপলব্ধি ছিল। তাঁর লেখায় সেই চিন্তারই প্রতিফলন ঘটেছে।
‘লাঙল’ পত্রিকার প্রসঙ্গ তুলে আবদুল হাই শিকদার বলেন, নজরুল শুধু কবি ছিলেন না; তিনি ছিলেন সক্রিয় সম্পাদক ও চিন্তাশীল রাজনৈতিক লেখকও। তাই তাঁর সাহিত্যকর্মের পাশাপাশি রাজনৈতিক ও সামাজিক চিন্তাকেও গুরুত্ব দিয়ে পাঠ করা প্রয়োজন।
নজরুলের জ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে তাঁর পরিচয়ের প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, নজরুলের ৬০ শতাংশের বেশি লেখা এখনো অপঠিত। প্রচলিত ধারণার ওপর নির্ভর না করে নজরুলের লেখা নিজেরাই পড়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
যুগান্তর সম্পাদক বলেন, নজরুলকে অশিক্ষিত বা কম শিক্ষিত বলার সুযোগ নেই। শিক্ষার অর্থ শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রি নয়। একজন স্রষ্টার গভীরতা তাঁর ডিগ্রি দিয়ে বিচার করা যায় না।
নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ কবিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, একটি ‘বিদ্রোহী’ কবিতা দিয়েই নজরুলের সৃষ্টিশীলতার বিশালতা অনেকখানি উপলব্ধি করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ‘একটা কবিতার মধ্যে সমস্ত পৃথিবীটাকে এক জায়গায় করা—বিন্দুর মধ্যে সিন্ধু সৃষ্টি করার মতো যে বিস্ময়কর কারিশমা, সেই ম্যাজিক নজরুল ছাড়া আর কারো মধ্যে ছিল না।’
অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে ‘স্মৃতিতে নজরুল প্রসঙ্গ: মুজফ্ফর আহমদের কাজী নজরুল ইসলাম: স্মৃতিকথা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ড. পারভীন আক্তার জেমী। ‘কাজী নজরুল ইসলামের সাহিত্যে আত্মদর্শন’ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুন্সি আবু সাইফ।
আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ড. কল্পনা হেনা রুমি এবং নজরুল-গবেষক ও এনজিও কর্মী পীযূষ কুমার ভট্টাচার্য। অধিবেশন সঞ্চালনা করেন একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. তানিয়া আক্তার।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আবদুল হাই শিকদার পৌঁছালে যুগান্তর স্বজন সমাবেশ ত্রিশাল উপজেলা শাখার পক্ষ থেকে তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এ সময় যুগান্তরের ব্যুরো অফিস স্টাফ রিপোর্টার অমিত রায়, ত্রিশাল প্রতিনিধি খোরশিদুল আলম মজিব, বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি শরীফুল ইসলাম, স্বজন সমাবেশের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আখলাকুল ইসলামসহ স্বজন-বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।
দিনব্যাপী নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম নজরুল জয়ন্তী উদযাপন করছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়।



