-
কৃষক কার্ড বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতি সহ্য করা হবে না বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দিয়ে সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্ড বিতরণের আহ্বান জানিয়েছেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে নেত্রকোনার কলমাকান্দায় তিন দিনব্যাপী ‘কৃষি প্রযুক্তি মেলা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, কৃষক বাছাইয়ের ক্ষেত্রে জমির পরিমাণ বিবেচনায় নিতে হবে। যেসব কৃষকের জমির পরিমাণ কম, তাঁদের আগে কৃষক কার্ড দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘প্রকৃত কৃষকদের মধ্যেও শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। কারও ১০ বিঘা জমি আছে, কারও পাঁচ বিঘা, আবার কেউ মাত্র দুই কাঠা জমির মালিক। আমার অনুরোধ থাকবে—দুই কাঠা জমির মালিক কৃষককে যেন আগে কার্ড দেওয়া হয়। পর্যায়ক্রমে অন্যদের দেওয়া হবে।’
কায়সার কামাল আরও বলেন, কৃষি কর্মকর্তাদের বক্তব্য শুনতে ভালো লাগলেও বাস্তবে তা কতটা কার্যকর হচ্ছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এখনো অনেক কৃষক তাঁদের উৎপাদিত ধান গুদামে বিক্রি করতে পারেননি। কেউ লিখিত নির্দেশনা পেয়েছেন, আবার কেউ পাননি। কেন কেউ বঞ্চিত হয়েছেন, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
কলমাকান্দা-দুর্গাপুর এলাকা পুরোপুরি কৃষিনির্ভর উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ অঞ্চলে তিন ধরনের ভূপ্রকৃতি রয়েছে এবং কৃষির বাইরে বড় ধরনের বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের সুযোগও সীমিত। তাই কৃষকদের সহায়তায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড প্রসঙ্গে ডেপুটি স্পিকার বলেন, এ দুটি কার্ড প্রধানমন্ত্রীর ‘সিগনেচার প্রজেক্ট’ এবং এটি তাঁর দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন। কলমাকান্দায় জনপ্রতিনিধি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও কৃষি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত কমিটির মাধ্যমে কার্ড বিতরণ করা হবে।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের যেখানে যাই হোক না কেন, কলমাকান্দা-দুর্গাপুরে কৃষক কার্ড নিয়ে কোনো ধরনের দুর্নীতির আশ্রয় নেওয়া যাবে না। পাশাপাশি প্রকৃত কৃষক যারা, তাঁদের যেন আগে কার্ড দেওয়া হয়।’
নিজের নির্বাচনী প্রচারের প্রসঙ্গ তুলে কায়সার কামাল বলেন, নির্বাচনের সময় তিনি কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রচার চালিয়েছেন। তখন অনেক কৃষক অভিযোগ করেছেন, আগের সরকারের সময়ে বিভিন্ন ধরনের কার্ড টাকার বিনিময়ে দেওয়া হয়েছে।
নিজেকে একজন কৃষকের সন্তান উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষকের সন্তান এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তাঁর দায়িত্ব হলো সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে এসব কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করা।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, কৃষক-শ্রমিকের শ্রম ও ঘামের কারণেই তাঁরা সরকারি দায়িত্বে রয়েছেন এবং তাঁদের করের অর্থেই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন দেওয়া হয়। বর্তমান সরকারকে আগের সরকারের সঙ্গে তুলনা না করার আহ্বানও জানান তিনি।
নিজের নির্বাচনী এলাকার মানুষের জন্য কার্যকরভাবে কাজ করতে না পারলে এমপি থাকার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন কায়সার কামাল।
কলমাকান্দা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন ইমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের (ফ্রিপ) সহযোগিতায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এনএম আবদুল্লাহ আল মামুন ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বক্তব্য দেন।



