যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধের ছয় মাস পরও অচলাবস্থা কাটেনি। এই পরিস্থিতিতে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক যুদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন ট্রাম্প প্রশাসন। ইরানের ওপর চাপ আরও বাড়ানোর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে মিশরের একটি ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে লেনদেনের কারণে মিশরের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংক Banque Misr-এর সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) শাখাগুলোকে ডলার লেনদেন থেকে বিরত রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক অপরাধ দমনবিষয়ক সংস্থা FinCEN একটি প্রস্তাবিত বিধি জারি করেছে।
এর মাধ্যমে Banque Misr UAE-এর মার্কিন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে প্রতিনিধি ব্যাংকিং সুবিধা বাতিল করা হতে পারে।
এদিকে, মিশরের কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, মার্কিন পদক্ষেপটি শুধু Banque Misr-এর আমিরাত শাখাগুলোর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। মিশরের অন্য কোনো ব্যাংকের ওপর এর প্রভাব পড়বে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক আরও জানায়, তারা এবং মিশরের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছে।
গত সোমবারই আন্তর্জাতিক একটি ব্যাংকের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্যায়ে ‘বড় ধরনের’ নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট । এর ধারাবাহিকতায় মিশরের এই ব্যাংকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের খবর প্রথম প্রকাশ করে ফিনান্সিয়াল টাইমস।
এক বিবৃতিতে বেসেন্ট বলেন, তেহরানের হাতে থাকা প্রতিটি অর্থনৈতিক লাইফলাইন বিচ্ছিন্ন করার এবং ইরানি শাসনের হুমকি চূড়ান্তভাবে বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ট্রেজারি। তিনি আরও বলেন, ইরানের সহযোগী ও সহায়তাকারীরা মার্কিন ডলার ও বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থায় প্রবেশাধিকার বজায় রাখতে পারবে না বলেও আগেই সতর্ক করা হয়েছিল।
বেসেন্ট বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ইরানি সরকারের প্রতি তাদের অব্যাহত সহায়তার বিষয়ে ‘কঠিন পথ বেছে নিয়েছে’ এবং তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে যুক্তরাষ্ট্র আজ প্রথম পদক্ষেপ নিয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, এ নিষেধাজ্ঞা শুধু Banque Misr-এর UAE শাখাগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ফলে কায়রোর প্রধান কার্যালয় এবং বিদেশে থাকা অন্যান্য শাখার মাধ্যমে ব্যাংকটি ডলার লেনদেন চালিয়ে যেতে পারবে। এসব শাখার মধ্যে প্যারিস, ফ্রাঙ্কফুর্ট, রিয়াদ, বৈরুত ও জিবুতির শাখাও রয়েছে।



