tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়ইউএনএইচসিআরের বাজেট কাটছাঁট: ঝুঁকিতে বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লাখ রোহিঙ্গা

ইউএনএইচসিআরের বাজেট কাটছাঁট: ঝুঁকিতে বাংলাদেশে আশ্রিত ১২ লাখ রোহিঙ্গা

চরম আর্থিক সংকটের মুখে ২০২৭ সালের বাজেট ও জনবল উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর পরিকল্পনা করছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর। সংস্থাটির এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বাজেট ২২ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১২ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গার মানবিক সহায়তা, সুরক্ষা ও জীবনযাত্রা আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, জেনেভায় জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রগুলোর এক বৈঠকে উপস্থাপিত নথিতে ইউএনএইচসিআরের ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট ১৬ শতাংশ কমিয়ে ৭ দশমিক ১৪ বিলিয়ন ডলারে নামিয়ে আনার কথা বলা হয়েছে। গত এক দশকের মধ্যে এটিই সংস্থাটির সর্বনিম্ন প্রস্তাবিত বাজেট। ২০২৫ সালে ইউএনএইচসিআরের বাজেট ছিল ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার।

প্রধান দাতা দেশগুলোর বৈদেশিক সহায়তা কমে যাওয়াকেই এই বাজেট সংকোচনের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে সংস্থাটির অন্যতম প্রধান দাতা যুক্তরাষ্ট্রের অনুদান ২০২৫ সালের প্রায় ৮০ কোটি ডলার থেকে চলতি বছরে কমে মাত্র ১১ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এই অর্থসংকটের বড় প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের ওপর। কক্সবাজার ও ভাসানচরের শিবিরে থাকা ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গা খাদ্য, চিকিৎসা, বাসস্থান, পানি, স্যানিটেশন ও অন্যান্য মৌলিক সেবার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক অনুদান কমে যাওয়ায় এসব সেবা অব্যাহত রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

এর মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বরাদ্দ আরও ২২ শতাংশ কমে গেলে রোহিঙ্গাদের খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সুরক্ষা কার্যক্রম পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংকট আরও গভীর হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি শরণার্থী সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের ওপরও এর বড় ধরনের আর্থিক ও সামাজিক চাপ তৈরি হতে পারে।

জেনেভার বৈঠকে অংশ নেওয়া কূটনীতিকরা এ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের আশঙ্কা, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা কমতে থাকলে বাংলাদেশসহ বড় সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোর ওপর দায়িত্ব ও ব্যয়ের ভার ক্রমেই বাড়বে। বিপুলসংখ্যক শরণার্থীর দীর্ঘমেয়াদি প্রয়োজন মেটাতে এসব দেশ কীভাবে বাড়তি ব্যয় বহন করবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

তবে ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, অর্থসংকটের মধ্যেও জরুরি ত্রাণ কার্যক্রম ও শরণার্থীদের সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করবে তারা।

সংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বেড়ে রেকর্ড ১৩ কোটি ১২ লাখে পৌঁছাতে পারে। ফলে বিশ্বে বাস্তুচ্যুতি যখন আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, ঠিক তখনই শরণার্থী সহায়তায় অর্থের সংকোচন নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

আগামী অক্টোবরে ইউএনএইচসিআরের নির্বাহী কমিটির বৈঠকে ২০২৭ সালের প্রস্তাবিত বাজেট চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে। সেই সিদ্ধান্তের ওপরই অনেকটা নির্ভর করছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শরণার্থী ও বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আগামী বছরের সহায়তার পরিধি।