বুয়েটসহ দেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা ঘোষণা দিয়েছে, ৫ দফা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। শিক্ষার্থীরা বলেন, সরকারের স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা উপদেষ্টা শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সামনে এসে দাবি মেনে না নেওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়াবেন না।
বুধবার বিকেল সোয়া ৫টার দিকে শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের এক্সিট গেটের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ এই ঘোষণা দেন।
৫ দফা দাবি তুলে ধরে তিনি বলেন,
১. আজকের শিক্ষার্থী হামলার ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলমকে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ ও জবাবদিহি করতে হবে।
২. আন্দোলনে অংশ নেওয়া রোকনের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. হামলায় জড়িত পুলিশের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৪. প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে গঠিত কমিটিকে বাতিল করে দ্রুত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের নিয়ে নতুন কমিটি গঠন করতে হবে।
৫. পূর্বে ঘোষিত ৩ দফা দাবি মেনে নিয়ে নির্বাহী আদেশে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।
এছাড়া তিন উপদেষ্টা ফওজুল করিম, আদিলুর রহমান ও সৈয়দা রেজওয়ান হাসানকে এসে নিশ্চয়তা দিতে হবে। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা ব্যয় বহন এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি যৌক্তিক আন্দোলনে ভবিষ্যতে কোনো হামলা করা যাবে না বলেও সতর্ক করেন শিক্ষার্থীরা।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, পুলিশের হামলায় অন্তত ৬০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
এর আগে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা পূর্বঘোষিত ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগে অবস্থান নেন। দুপুর দেড়টার দিকে যমুনার উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, টিয়ারশেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এতে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী ও পুলিশ সদস্য আহত হন।



