সকালে ঘুম থেকে উঠে এক কাপ গ্রিন টি পান করার কিছুক্ষণের মধ্যেই মলত্যাগের চাপ অনুভব করেন অনেকেই। কারও ক্ষেত্রে নিয়মিত গ্রিন টি খাওয়ার পর অন্ত্রের কার্যক্রমও আগের তুলনায় সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ কারণে প্রশ্ন উঠতে পারে—গ্রিন টি কি তাহলে প্রাকৃতিক জোলাপের মতো কাজ করে?
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজিস্ট ডা. জোসেফ সালহাবের মতে, অনেকের এমন অভিজ্ঞতা হওয়ার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা রয়েছে। তবে গ্রিন টিকে সরাসরি জোলাপ বলা ঠিক হবে না।
উষ্ণ পানীয় ও ক্যাফেইনের প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্রিন টিতে থাকা ক্যাফেইন এবং পানীয়টির উষ্ণতা একসঙ্গে গ্যাস্ট্রোকলিক রিফ্লেক্সকে সক্রিয় করতে পারে। এই রিফ্লেক্সের কারণে বৃহদান্ত্রের সংকোচন বাড়ে এবং মলত্যাগের তাগিদ তৈরি হতে পারে।
বিশেষ করে সকালে এ প্রভাব তুলনামূলক বেশি অনুভূত হতে পারে। তাই কারও কারও ক্ষেত্রে এক কাপ উষ্ণ গ্রিন টি পান করাই অন্ত্রের কার্যক্রম সচল করার জন্য যথেষ্ট।
তবে সবার শরীরে এর প্রভাব এক রকম নয়। ক্যাফেইনের প্রতি সংবেদনশীলতা এবং ব্যক্তিভেদে হজমপ্রক্রিয়ার পার্থক্যের কারণে কারও মলত্যাগে দ্রুত প্রভাব পড়তে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে তেমন কোনো পরিবর্তন নাও হতে পারে।
অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ গ্রিন টি
মলত্যাগের সম্ভাব্য প্রভাবের বাইরেও গ্রিন টির বেশ কিছু স্বাস্থ্যগত উপকার নিয়ে গবেষণা হয়েছে। এতে থাকা পলিফেনল ও ক্যাটেচিন, বিশেষ করে ইজিসিজি (EGCG), অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহরোধী বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত।
বিভিন্ন গবেষণায় নিয়মিত গ্রিন টি পানকারীদের রক্তচাপ, এলডিএল বা ‘খারাপ’ কোলেস্টেরল এবং হৃদ্স্বাস্থ্যে সামান্য ইতিবাচক প্রভাবের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। মনোযোগ, স্মৃতি ও মস্তিষ্কের কার্যকারিতার ক্ষেত্রেও কিছু সম্ভাব্য উপকারের কথা উঠে এসেছে গবেষণায়।
অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ায় প্রভাব
গ্রিন টি অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হয়। ছোট পরিসরের একটি মানব গবেষণায় দেখা গেছে, ১০ দিন গ্রিন টি পান করার সঙ্গে বিফিডোব্যাকটেরিয়াম নামের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার একটি গোষ্ঠীর বৃদ্ধির প্রবণতার সম্পর্ক রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে আরও বড় ও দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা প্রয়োজন। তাই গ্রিন টিকে অন্ত্রের স্বাস্থ্যের নিশ্চিত চিকিৎসা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।
ফ্যাটি লিভার নিয়েও চলছে গবেষণা
লিভারের স্বাস্থ্য নিয়েও গ্রিন টির সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণা হয়েছে। কিছু ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ফ্যাটি লিভারে আক্রান্ত ব্যক্তিদের লিভার এনজাইম এবং কিছু বিপাকীয় সূচকে উন্নতির ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে ফ্যাটি লিভার প্রতিরোধ বা চিকিৎসায় গ্রিন টির কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণার ফল এখনো পুরোপুরি একমত নয়।
সব মিলিয়ে, গ্রিন টি অনেকের ক্ষেত্রে অন্ত্রের কার্যক্রম সক্রিয় করে দ্রুত মলত্যাগের তাগিদ তৈরি করতে পারে। এর পেছনে মূলত ক্যাফেইন, উষ্ণ পানীয় এবং গ্যাস্ট্রোকলিক রিফ্লেক্সের ভূমিকা থাকতে পারে। তবে এটিকে সরাসরি জোলাপ হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক নয়। পাশাপাশি হৃদ্স্বাস্থ্য, মস্তিষ্ক, অন্ত্র ও লিভারের ওপর গ্রিন টির সম্ভাব্য প্রভাব নিয়েও গবেষণা অব্যাহত রয়েছে।
তথ্যসূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস



