tanaka
প্রচ্ছদজাতীয়সালমান শাহ হত্যা: ডনকে রিমান্ডে নিতে আদালতে সিআইডির ৩ যুক্তি

সালমান শাহ হত্যা: ডনকে রিমান্ডে নিতে আদালতে সিআইডির ৩ যুক্তি

চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যু নিয়ে দায়ের করা হত্যা মামলায় গ্রেফতার অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যদের পরিচয় ও ভূমিকা নিশ্চিত এবং ডনের বিদেশে পালানোর চেষ্টার কারণ জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ জরুরি বলে আদালতে দেওয়া আবেদনে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তা পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান গত ২৪ আগস্ট ডনকে সাত দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেন। এ আবেদনের শুনানির জন্য ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দিন নির্ধারণ করেছেন। আসামিকে আদালতে হাজির করে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

১. সালমান শাহের মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য জানতে

রিমান্ড আবেদনে সিআইডি উল্লেখ করেছে, ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত এ ঘটনায় ডনের ভূমিকা কী ছিল এবং তিনি কী কী তথ্য জানেন, তা যাচাই করতে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে মনে করছে তদন্ত সংস্থা।

২. সহযোগীদের শনাক্ত করে গ্রেফতার

ঘটনার সঙ্গে ডনের পাশাপাশি আরও কেউ জড়িত ছিলেন কি না, সেটিও তদন্ত করছে সিআইডি। ডনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সম্ভাব্য সহযোগীদের পরিচয়, অবস্থান ও ভূমিকা শনাক্ত করা সম্ভব হতে পারে বলে রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব তথ্যের ভিত্তিতে অন্যদের গ্রেফতারের বিষয়েও অগ্রসর হতে চায় তদন্ত সংস্থা।

৩. বিদেশে যাওয়ার চেষ্টার কারণ অনুসন্ধান

ডনের বিদেশে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি কীভাবে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং এর পেছনে কারও সহযোগিতা বা প্ররোচনা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে চায় সিআইডি। কেন তিনি বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং এ ঘটনায় অন্য কারা জড়িত থাকতে পারেন—জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে এসব প্রশ্নের উত্তর বের করার চেষ্টা করা হবে।

বিমানবন্দর থেকে আটক হওয়ার পর কারাগারে ডন

এর আগে গত ৯ আগস্ট ভোরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে ডনকে আটক করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। সেদিন তাকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে রাখার আবেদন করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে সালমান শাহ হত্যা মামলায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে সিআইডি। সেই আবেদনের ওপরই বৃহস্পতিবার শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।

অপমৃত্যু থেকে হত্যা মামলা

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক সালমান শাহের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন সালমান শাহের মামা মোহাম্মদ আলমগীর রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

ওই মামলায় আশরাফুল হক ওরফে ডনসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পর ঘটনাটি নতুন করে হত্যা মামলা হিসেবে তদন্ত শুরু হওয়া এবং ডন গ্রেফতারের পর তাকে রিমান্ডে নেওয়ার উদ্যোগে আলোচিত এ মামলাটি আবারও সামনে এসেছে।