কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে মানবতাবিরোধী অপরাধ—যার মধ্যে গুম ও হত্যার অভিযোগও রয়েছে—সংক্রান্ত এক মামলায় বিচার মোকাবিলায় থাকা ১০ সেনা কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিশেষ কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে তাদের ট্রাইব্যুনালে আনা হয়।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল শুনানি গ্রহণ ও আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে। প্যানেলের অন্যান্য সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেল (টিএফআই সেল)–এ গুম করে রাখার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) গঠনের শুনানি আজ হতে পারে। এ শুনানির জন্য গত ২৩ নভেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল।
কারাগারে থাকা ১০ সেনা কর্মকর্তা হলেন:
কর্নেল এ কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মশিউর রহমান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, লে. কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।
শেখ হাসিনার শাসনামলে সংঘটিত গুম ও হত্যার অভিযোগসংবলিত মামলায় গত ২২ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই ১০ কর্মকর্তাকে অন্য মামলার ৩ আসামিসহ কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পরে তাদের ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের সরকারের ঘোষিত বিশেষ কারাগারে রাখা হয়। গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সংঘটিত গুমের অভিযোগে গত ৮ অক্টোবর একই ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনাসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। শুনানি শেষে আদালত অভিযোগ আমলে নিয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করে।



