tanaka

মুয়াজ্জিন থেকে ঢাকাই সিনেমার খলনায়ক ডন

একসময় মসজিদে নিয়মিত আজান দিতেন আশরাফুল হক ডন। নব্বইয়ের দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রে পা রাখার পর নানা আলোচিত চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পান খলনায়ক হিসেবে।...
প্রচ্ছদআন্তর্জাতিকআজ আমি প্রাণেও মরতে পারতাম: মমতা

আজ আমি প্রাণেও মরতে পারতাম: মমতা

পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনায় গাড়িতে হামলার অভিযোগ করেছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। রোববার (৯ আগস্ট) হালিশহরে বিক্ষোভের মধ্যে তার গাড়িতে ইট-পাথর ছোড়া হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। মমতার দাবি, এসব পাথর গায়ে বা মাথায় লাগলে প্রাণহানিও ঘটতে পারত। তবে এ ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছে দলটি।

পুলিশি হেফাজতে এক দলীয় কর্মীর মৃত্যুর অভিযোগে তার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার পথে হালিশহরে বিক্ষোভের মুখে পড়েন মমতা। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তার গাড়ি ঘিরে ধরে কাদা মাখিয়ে দেন এবং জুতা ও পানির বোতল ছোড়েন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিক্ষোভকারীদের ‘চোর ভাগাও’ স্লোগানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। ঘটনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মমতা বলেন, ইট-পাথর গায়ে লাগলে তার মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারত।

তিনি অভিযোগ করেন, “পুলিশের সামনে বাইরে থেকে আসা সমাজবিরোধীরা আমার গাড়িতে পাথর ছুড়েছে। গাড়ির জানালা বন্ধ না থাকলে আমার মাথা ফেটে যেত। আমি মারা যেতে পারতাম। আমি কখনোই এমন হামলার মুখোমুখি হইনি।”

পুলিশের ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। মমতার অভিযোগ, তাকে রক্ষায় পুলিশ যথাযথ ভূমিকা পালন করেনি এবং তারা বিজেপিকে সুরক্ষা দিয়েছে। মমতার সঙ্গে থাকা লোকসভার সদস্য কল্যাণ ব্যানার্জি ও রাজ্যসভার সদস্য দোলা সেনও প্রশাসনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

কল্যাণ ব্যানার্জির অভিযোগ, “মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে ব্যবহার করে সব চালাচ্ছেন।”

বিজেপির অস্বীকার

মমতার গাড়িতে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে রাজ্য বিজেপি। দলটির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, এ ঘটনার সঙ্গে বিজেপির কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি বলেন, দলীয় কর্মীদের কোনো ধরনের সহিংসতা সহ্য করা হবে না। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

কেন উত্তর ২৪ পরগনায় গিয়েছিলেন মমতা?

পুলিশি হেফাজতে মারা যাওয়া এক সাবেক তৃণমূল কাউন্সিলরের স্বামী বীরজু কেওটের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে রোববার সকালে উত্তর ২৪ পরগনায় যান মমতা ব্যানার্জি।

চাঁদাবাজির অভিযোগে গত শুক্রবার কেওটকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল। তার স্ত্রী ও কাঁচরাপাড়া পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর জেনি শর্মার অভিযোগ, হাজতখানায় তার স্বামীকে নির্যাতন ও মারধর করে হত্যা করা হয়েছে।

তবে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর এই অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

অভিষেকেরও পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ

ঘটনার আগে কেওটকে গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের সমালোচনা করেছিলেন তৃণমূল নেতা ও সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জি। তার অভিযোগ, এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও পুলিশ কেওটকে তুলে নিয়ে যায়।

অভিষেক বলেন, “রাষ্ট্র যখন এফআইআরে নাম না থাকা সত্ত্বেও কোনো মানুষকে হেফাজতে নিতে পারে—এবং সে আর জীবিত ফিরে আসে না—তখন প্রশ্নটি শুধু আইন-শৃঙ্খলার থাকে না। এটি সরাসরি আইনের শাসনের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।”

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর কয়েক মাসের ব্যবধানে মমতার গাড়িতে এই হামলার অভিযোগ সামনে এলো। এর আগে মমতার ভাতিজা ও তৃণমূলের সংসদ সদস্য অভিষেক ব্যানার্জিও তার নির্বাচনী এলাকায় হামলার শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।