tanaka

মেরুল বাড্ডায় রাজউকের দেড় হাজার কোটি টাকার জমি ২১ বছর ধরে দখলে

রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় রাজউকের প্রায় ১১ একর জমি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জমিটির বাজারমূল্য প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা। একই জমিকে ঘিরে প্রায় ছয় হাজার মানুষের কাছ থেকে ৩০০ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
প্রচ্ছদআদালতপ্রায় দুই বছর বিচারকাজের বাইরে সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি

প্রায় দুই বছর বিচারকাজের বাইরে সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারপতি

সুপ্রিম কোর্ট ভবনের উঁচু সাদা গম্বুজের নিচে প্রতিদিন চলছে বিচারকাজ। উচ্চ আদালতের বিচার শুরুর আগে বেঞ্চ বসে, শুনানি হয়, রায় আসে। সেই বিচারিক কাঠামোর ভেতরেই এক বিচারপতি প্রায় দুই বছর ধরে কার্যত নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়েছেন। তিনি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ।

শেখ হাসান আরিফ ২০১০ সালে শেখ হাসিনার সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান। এরপর এক দশকের বেশি সময় তিনি বিচারিক দায়িত্ব পালন করেছেন।

তবে ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবরের পর আর কোনো বেঞ্চে বসেননি বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ। অংশ নেননি কোনো মামলার শুনানিতে, রায়ও দেননি। তবুও তিনি পদে বহাল। এখনো বিচারপতির সব সাংবিধানিক সুবিধা ভোগ করছেন। পাচ্ছেন বেতন-ভাতা, রাষ্ট্রীয় প্রটোকল এবং অন্যান্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা।

সুপ্রিম কোর্টের করিডরে তার নাম এখনো বহাল রয়েছে, কিন্তু বিচারিক কার্যক্রমে তার উপস্থিতি নেই। অভিযোগের মুখে তাকে বিচারকাজ থেকে সরিয়ে রাখা হলেও দেড় বছর পরও তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্তই শুরু হয়নি।

বাংলাদেশের বিচার বিভাগের সাম্প্রতিক ইতিহাসে এই পরিস্থিতি এক অস্বস্তিকর প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়েছে। অভিযোগের মুখে একজন বিচারপতিকে কার্যত বিচারকাজ থেকে সরিয়ে রাখা হলেও দেড় বছরের বেশি সময় পার হওয়ার পরও কেন তার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়নি?

আইনজীবীদের অভিযোগ, ছাত্র-জনতার বিক্ষোভ এবং বিচার বিভাগে রাজনৈতিক আনুগত্য ও দুর্নীতির প্রশ্ন সামনে আসার পর ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ বিচারপতি শেখ হাসান আরিফসহ ১২ জন বিচারপতিকে বিচারকাজ থেকে বিরত রাখেন। অভিযোগ ছিল- তারা ‘দুর্নীতিবাজ’, ‘দলবাজ’ এবং ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’।

বিচারপতি শেখ হাসান আরিফের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ ওঠে, গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে তিনি শিক্ষার্থীদের ‘টোকাই’ বলে উল্লেখ করে ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন। কিন্তু এরপর কেটে গেছে দেড় বছরের বেশি সময়। সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল এখনো বিচারপতি আরিফের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেনি।