tanaka

জলবায়ু অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণে উন্নত দেশগুলোকে আহ্বান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত দেশগুলোকে অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ, ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য তহবিল পাওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন...
প্রচ্ছদজাতীয়বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্ত প্রতিবেদনে নাম, কী হবে আইজিপির?

বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্ত প্রতিবেদনে নাম, কী হবে আইজিপির?

বিডিআর হত্যাকাণ্ড তদন্তে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার অভিযোগে বর্তমান পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার নাম এসেছে। স্পর্শকাতর এই প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রশাসনের ভেতরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৎকালীন বিশেষ শাখা (এসবি) প্রধান হিসেবে বাহারুল আলম আওয়ামী লীগ সরকারের রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং বিরোধী পক্ষের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সক্রিয় ছিলেন—এমন অভিযোগ উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব কারণে তার ভবিষ্যৎ নিয়েও জল্পনা চলছে। তাকে কোনো দেশে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া অথবা তার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল—এই দুই সিদ্ধান্তের যেকোনো একটি হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

২০০৯ সালের ২৫–২৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকার পিলখানায় ঘটে যাওয়া বিডিআর বিদ্রোহে তৎকালীন বিডিআর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদসহ ৫৭ সেনা কর্মকর্তা এবং মোট ৭৪ জন নিহত হন। ওই ঘটনায় মামলা করে আদালত ১৩৯ জনকে মৃত্যুদণ্ড, ১৮৫ জনকে যাবজ্জীবন এবং আরও ২২৮ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। তবে তদন্ত ও বিচার নিয়ে শুরু থেকেই ভুক্তভোগীদের নানা আপত্তি ছিল।

জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর সাত সদস্যের জাতীয় স্বাধীন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশন গত ৩০ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিডিআর হত্যাকাণ্ড ছিল পরিকল্পিত এবং এতে বহিঃশক্তির পাশাপাশি তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঘটনাটির প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে ঢাকার সাবেক দক্ষিণ সিটির মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনের ১৪৬ নম্বর পয়েন্টে পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম রয়েছে—তৎকালীন আইজিপি নূর মোহাম্মদ, ডিএমপি কমিশনার নাইম আহমেদ, অতিরিক্ত আইজিপি (এসবি) বাহারুল আলম, সাবেক অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম ও তদন্ত কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি আব্দুল কাহার আকন্দ এবং তার দল।

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় পুলিশের এসবি প্রধান থাকা বাহারুল আলম ১৯৮৪ ব্যাচের বিসিএস পুলিশ কর্মকর্তা। ঘটনার পর তাকে জাতিসংঘ শান্তিমিশনে পাঠানো হয়। তিনি ২০১৩ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে পুলিশ লিয়াজোঁ অফিসার এবং ২০১৫ সালে আফগানিস্তান মিশনে সিনিয়র পুলিশ অ্যাডভাইজার হিসেবে কাজ করেন। এছাড়া ক্রোয়েশিয়া, সার্বিয়া, কসোভো ও সিয়েরা লিওনেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে অবসর নেওয়ার পর ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে আইজিপি পদে ফিরিয়ে আনে অন্তর্বর্তী সরকার।

তদন্ত কমিশনের প্রধান অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ. ল. ম. ফজলুর রহমান বলেন, পাঁচজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম প্রতিবেদনে এসেছে—এর কারণ তাদের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে কমিশনের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। তিনি বলেন, “অনেক ভলিউম—সবটা এখনো পড়া হয়নি। পড়া হলে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।”