tanaka

হেফাজত আমিরকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন প্রধানমন্ত্রী

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে পৌঁছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সাক্ষাতের শুরুতেই হেফাজত আমিরকে বুকে জড়িয়ে...
প্রচ্ছদটপ নিউজবিভ্রান্তিকর কথা বলে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

বিভ্রান্তিকর কথা বলে শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, এ বিষয়ে কেউ বিভ্রান্তি ছড়িয়ে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করার চেষ্টা করবেন না। পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপনের আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত এক সমাবেশে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তারেক রহমান বলেন, ‘আগামী ১০ বছরে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থার কী হবে, সেই পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করা হবে। বিষয়টি নিয়ে কিছু মানুষ কিছুদিন ধরে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছেন। তাদের উদ্দেশে বলতে চাই, বিএনপি সরকার পরিকল্পনা সংসদে উপস্থাপন করবে। আপনাদের কোনো পরিকল্পনা থাকলে জনগণের কাছে উপস্থাপন করুন। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশের শান্তিশৃঙ্খলা বিনষ্ট করবেন না।’

তিনি বলেন, ‘দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর হয়ে গেছে। এখন জনগণের জন্য কাজ করার সময়, দেশ গঠনে কাজ করার সময়। আমাদের পরে স্বাধীন হওয়া অনেক দেশও পরিশ্রমের মাধ্যমে এগিয়ে গেছে। আমরা আর পেছনে পড়ে থাকতে পারি না। জনগণের জীবনমান ও দেশের ভাগ্যের উন্নয়ন করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন তা জনগণের স্বার্থে। পরিকল্পনা সঠিক হলে সবার সমর্থন থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, ‘বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না।’

তিনি বলেন, এখন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। এরই মধ্যে সরকার এ বিষয়ে কাজ শুরু করেছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের ব্যবস্থাও করা হবে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় শিল্পায়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আনোয়ারায় চীনকে আমরা একটি বিরাট জায়গা দিয়েছি। আমি সম্প্রতি চীন সফর করে তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। সেখানে তারা কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরি করবে। এসব মিল-কারখানায় সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ কাজের সুযোগ পাবেন, ইনশাআল্লাহ।’

তিনি বলেন, এর ফলে একদিকে বেকারত্বের সমস্যা কমবে, অন্যদিকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, চলতি অর্থবছরে ৪১ লাখ মাকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবার এ কার্ড পাবে।

তিনি আরও বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। শুধু ধান, পাট, শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল চাষিরাই নন, লবণচাষিরাও কৃষক কার্ড পাবেন।

লবণের মূল্য নির্ধারণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘লবণের মূল্য নির্ধারণের বিষয়ে একটি কথা এসেছে। আলোচনা করে আমরা ইনশাআল্লাহ লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে মূল্য পেলে লবণচাষিরা স্বাবলম্বী ও অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল হতে পারবেন, সেই মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দাম সবাইকে জানিয়ে দেব।’

তিনি বলেন, এর ফলে লবণচাষিদের আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।

সমাবেশে বাঁশখালী উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কথাও জানান প্রধানমন্ত্রী।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, চট্টগ্রাম-১৩ (পটিয়া) আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম-১৩ (চন্দনাইশ) আসনের এমপি মো. জসিম উদ্দিন, আনোয়ারার এমপি সাওয়াব জামান নিজাম, বান্দরবানের এমপি সাচিং প্রু জেরি, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ইদ্রিস মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক লায়ন হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা ও বাঁশখালী উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মাস্টার লোকমান, বৈলছড়ি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইব্রাহিম বিন খালিল, এপিপি নাসির উদ্দিন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু আহমদ প্রমুখ।