২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে বিশেষ কোটায় ভর্তির জন্য মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একাদশে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের অনলাইন আবেদনের সময়ও বাড়িয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড।
নতুন সূচি অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করা যাবে আগামী ১ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত। আর বিশেষ কোটায় মনোনীত শিক্ষার্থীদের আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজে ভর্তি সম্পন্ন করতে হবে।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ঢাকা শিক্ষা বোর্ড পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায়। বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক মুনসী হুমায়ুন কবির স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ কোটায় মনোনীত শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কলেজে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে ভর্তি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ কোটায় যেভাবে মনোনয়ন
প্রবাসী, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক ও প্রতিবন্ধী—এই চার ধরনের বিশেষ কোটায় শিক্ষার্থীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
প্রবাসী কোটায় ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের প্রত্যয়নপত্র ও পাসপোর্টের প্রমাণক, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কোটায় জাতীয় বা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অর্জনের সনদ এবং প্রতিবন্ধী কোটায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধী সনদের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিশেষ কোটায় মনোনীত শিক্ষার্থীদের ভর্তি নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কলেজ কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব শিক্ষার্থীর রেজিস্ট্রেশন-পরবর্তী কার্যক্রমের বিষয়ে পরে জানানো হবে।
বিশেষ কোটায় মনোনীত শিক্ষার্থীদের তালিকা ও ভর্তি-সংক্রান্ত বিস্তারিত নির্দেশনা ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
দ্বিতীয় ধাপের আবেদনের সময় বাড়ল
এদিকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির দ্বিতীয় ধাপের অনলাইন আবেদনের সময় ১ অক্টোবর রাত ৮টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ধাপের ফল প্রকাশ করা হবে ৫ অক্টোবর রাত ৮টায়।
নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ৮ অক্টোবর রাত ৮টার মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিশ্চায়ন সম্পন্ন না করলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর নির্বাচন ও আবেদন বাতিল হয়ে যাবে।
দ্বিতীয় ধাপে নিশ্চায়ন করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে পছন্দক্রম অনুযায়ী যাদের মাইগ্রেশন হবে, তাদের ফল প্রকাশ করা হবে ৯ অক্টোবর রাত ৮টায়। এরপর ১১ থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত চূড়ান্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে।
কারা দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারবেন
নতুন সূচি অনুযায়ী, যারা এখনো একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবেদন করেনি অথবা আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত হয়নি, তারা দ্বিতীয় ধাপে আবেদন করতে পারবে।
এ ছাড়া প্রথম ধাপে চূড়ান্ত মনোনয়ন পেয়েও ভর্তি নিশ্চায়ন করতে না পারা, নির্ধারিত সময়ে কলেজে ভর্তি হতে না পারা এবং ভুল কোটা নির্ধারণের কারণে ভর্তি হতে না পারা শিক্ষার্থীরাও দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সুযোগ পাবেন।
দ্বিতীয় ধাপে আবেদনের সময় শিক্ষার্থীদের কলেজের বিদ্যমান আসনসংখ্যা বিবেচনায় নিয়ে পছন্দক্রমে সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ রাখতে হবে।
প্রথম ধাপে আবেদন করেও কোনো কলেজে নির্বাচিত না হওয়া শিক্ষার্থীদের নতুন করে ২২০ টাকা আবেদন ফি দিতে হবে না। তাদের ভর্তি-সংক্রান্ত ওয়েবসাইটে লগইন করে কলেজের পছন্দক্রম নির্বাচন অথবা পরিবর্তন করতে হবে।
কোটায় আবেদনে যোগ্যতা যাচাইয়ের নির্দেশ
বাংলাদেশ আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে কোটায় আবেদন করার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে নিজের কোটার যোগ্যতা আগে নিশ্চিত হয়ে আবেদন করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চায়ন ফি জমা দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচিত কলেজে ভর্তি কার্যক্রমও সময়মতো শেষ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন না করলে ভর্তির সুযোগ বাতিল হয়ে যেতে পারে।



