বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত বিভিন্ন পাটপণ্যের ওপর নতুন করে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত। দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কয়েকটি বাংলাদেশি পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হলেও তালিকার বাইরে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক দিতে হবে।
ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজের (ডিজিটিআর) পর্যালোচনার চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির অর্থ মন্ত্রণালয়। ২৪ সেপ্টেম্বর জারি করা প্রজ্ঞাপনে নতুন শুল্ক কাঠামোর বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, পুনর্নির্ধারিত এই শুল্ক বাংলাদেশের পাটের সুতা বা টুইন, হেসিয়ান কাপড় এবং পাটের বস্তার ওপর প্রযোজ্য হবে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে কার্যকর হওয়া বিদ্যমান অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের অবশিষ্ট মেয়াদ পর্যন্ত নতুন হার কার্যকর থাকবে।
ডিজিটিআর জানিয়েছে, ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশন এবং এপি মেস্তা টুইন মিলস অ্যাসোসিয়েশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের জুনে এই পর্যালোচনা শুরু হয়। সংস্থাটির অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, বাংলাদেশি রপ্তানিকারকদের পাটপণ্য ভারতে ডাম্পিংয়ের কারণে দেশটির স্থানীয় পাটশিল্প ক্ষতির মুখে পড়ছে।
পর্যালোচনার অংশ হিসেবে বাংলাদেশের ৫৪টি এবং নেপালের ৩৬টি পাটকলের কাছে তথ্য চেয়েছিল ডিজিটিআর। এর মধ্যে বাংলাদেশের ৩৮টি এবং নেপালের পাঁচটি প্রতিষ্ঠান প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করে।
ডিজিটিআরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্ত চলাকালে ভারতে পাটপণ্যের সামগ্রিক চাহিদা ২০ শতাংশ কমলেও বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানি কমেছে ১৩ শতাংশ। এর ফলে ভারতীয় পাটকলগুলোর বাজার অংশীদারত্ব কমার বিপরীতে বিদেশি উৎপাদনকারীদের অংশীদারত্ব বেড়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারতে বাংলাদেশের পাটপণ্য রপ্তানি আগের অর্থবছরের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ১ লাখ ১৭ হাজার টনে নেমে আসে।
৩৬ বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য পৃথক শুল্কহার
ভারতের অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২৪ সেপ্টেম্বরের প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ৩৬টি পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের পণ্যের ধরন ও প্রতিষ্ঠানের ভিত্তিতে প্রতি টনে বিভিন্ন হারে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। সর্বনিম্ন শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৯ ডলার।
তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পাটের সুতা রপ্তানিকারক আশা জুট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ওপর প্রতি টনে ৫৯ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যা তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সর্বনিম্ন।
এ ছাড়া বাংলাদেশের ১৭টি প্রতিষ্ঠানের পাটের বস্তা রপ্তানির ক্ষেত্রে প্রতি টনে ১২০ ডলার শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে তালিকায় থাকা ৩৬টি প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কোনো উৎপাদনকারী পাটের সুতা বা টুইন রপ্তানি করলে তাদের প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক দিতে হবে।
শুল্কমুক্ত সুবিধা পেল ৮ প্রতিষ্ঠান
নতুন প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশের ছয়টি পাটপণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের সব ধরনের রপ্তানি পণ্যে পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো—এএম জুট ইন্ডাস্ট্রিজ, বোনানজা জুট কম্পোজিট, লাভলী জুট মিলস, নওহাটা জুট মিলস, পোদ্দার অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ এবং রানু অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ।
এ ছাড়া নাটোর জুট মিলস ও জনতা জুট মিলসকে পাটের বস্তা ও হেসিয়ান কাপড় রপ্তানির ক্ষেত্রে শুল্কমুক্ত সুবিধা দেওয়া হয়েছে।
এর আগে বাংলাদেশ ও নেপাল থেকে আমদানিকৃত পাটের সুতা, হেসিয়ান কাপড় ও পাটের বস্তার ওপর প্রতি টনে ১৯ থেকে ৩৫২ ডলার পর্যন্ত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছিল ভারত। নতুন সিদ্ধান্তে নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য শুল্কহার পুনর্নির্ধারণের পাশাপাশি তালিকার বাইরে থাকা রপ্তানিকারকদের জন্য সর্বোচ্চ ৪৪৫ ডলার পর্যন্ত শুল্ক নির্ধারণ করা হয়েছে।



