tanaka
প্রচ্ছদরাজধানীনিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর: এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

নিউগিনি প্রপার্টিজে হামলা-ভাঙচুর: এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার

ঢাকার দক্ষিণ মানিকদীর নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) ডিএমপির অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস) নিয়াজ মেহেদী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে এ ঘটনায় করা মামলায় ১৩ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়। মিজানুর রহমানের আগে মামলার ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদসহ চারজনকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানিয়েছিলেন ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ইসিবি চত্বর এলাকায় অবস্থিত নিউগিনি প্রপার্টিজে গত শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওসহ আবাসন প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। এ নিয়ে এক আবাসন নির্মাতা ও একজন অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার মধ্যে বিরোধ চলছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, জমি দখল ও পূর্বশত্রুতার জেরে আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আবাসন প্রকল্পে প্রবেশ করেন। তারা গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন এবং প্রকল্পের প্রকৌশলী ও নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে আহত করেন।

এজাহারে বলা হয়, গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ১১টা ২০ মিনিটে বাদী প্রকল্প এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় ১ নম্বর আসামি শাহরিয়ার মাহমুদের ইন্ধন ও নির্দেশে অন্য আসামিরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রকল্পে প্রবেশ করেন। তাদের হাতে শটগান, রিভলবার, চাপাতি, রামদা, ছোরা, রড ও লাঠিসোঁটা ছিল।

বাদীর অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার মো. পারভেজকে মারধর করে আহত করেন। একপর্যায়ে ২ নম্বর আসামি আবুল কাশেম রিভলবারের বাঁট দিয়ে পারভেজের মাথায় আঘাত করেন। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে প্রকল্পের নিরাপত্তাকর্মী সৈয়দ নজরুল ইসলামকেও মারধর করা হয়।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা প্রকল্পের মূল ফটকের দিকে প্রায় ১০ রাউন্ড গুলি ছোড়েন। পরে তারা লোহার গেট, থাই গ্লাস ও কাচের গেট ভাঙচুর করেন। একপর্যায়ে হামলাকারীরা প্রকল্পের অফিসকক্ষে প্রবেশ করে সেখানেও ব্যাপক ভাঙচুর চালান।

ঘটনার পর থেকে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালিয়ে আসছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। এরই ধারাবাহিকতায় মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হলো।