দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। শেষ ১৫ মিনিটে তিন গোল করে মিশরকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
ম্যাচের শুরু থেকেই চাপে পড়ে আর্জেন্টিনা। ১৫তম মিনিটে কর্নার থেকে মারওয়ান আতিয়ার ক্রসে ইয়াসির ইব্রাহিমের শক্তিশালী হেডে এগিয়ে যায় মিশর। পোস্টের ডানদিকের নিচের কোণ দিয়ে বল জালে জড়িয়ে ১-০ ব্যবধান এনে দেন তিনি।
গোল হজমের পাঁচ মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পায় আর্জেন্টিনা। বক্সে নিকোলাস তাগলিয়াফিকো ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় দলটি। তবে ২১তম মিনিটে লিওনেল মেসির নেওয়া স্পটকিক দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন মিশরের গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর।
বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির অষ্টম পেনাল্টি, যার মধ্যে চারটিই তিনি মিস করলেন। চলতি আসরেও এটি তার দ্বিতীয় পেনাল্টি মিস। অন্যদিকে, টুর্নামেন্টে মোস্তফা শোবেইরের এটি দ্বিতীয় পেনাল্টি সেভ।
প্রথমার্ধে আরও কয়েকবার গোলের সুযোগ তৈরি করেও সমতা ফেরাতে পারেনি আর্জেন্টিনা। আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড এবং হুলিয়ান আলভারেজের শটও দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন মোস্তফা।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়ালেও মিশরের জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে হিমশিম খেতে হয় আর্জেন্টিনাকে। এক পর্যায়ে পাল্টা আক্রমণ থেকে জিকো বল জালে পাঠালেও আক্রমণের শুরুতে ফাউল থাকায় গোলটি বাতিল হয়।
তবে ম্যাচের শেষদিকে বদলে যায় দৃশ্যপট। ৭৯তম মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে ক্রিস্টিয়ান রোমেরো হেডে ব্যবধান কমান। অফসাইডের আবেদন করলেও ভিএআরে গোল বহাল থাকে।
৮৪তম মিনিটে নিজেই গোল করে সমতা ফেরান মেসি। তার জোরালো শট গোলরক্ষকের গায়ে লেগে ক্রসবারের নিচে আঘাত করে জালে জড়ায়। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল তার অষ্টম গোল। পাশাপাশি টানা নয়টি বিশ্বকাপ ম্যাচে গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন তিনি।
যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আসে নাটকীয় জয়সূচক গোল। দ্রুত পাল্টা আক্রমণে লাউতারো মার্টিনেজের নিখুঁত ক্রস থেকে এনজো ফার্নান্দেজ হেডে বল জালে পাঠিয়ে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে দেন।
শেষ পর্যন্ত সেই ব্যবধানই ধরে রেখে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনের জয় নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।



