ইউক্রেনের সামরিক অভিযানে ব্যবহৃত স্টারলিংক ইন্টারনেট সেবার গতি সীমিত করার পেছনে মার্কিন সরকার ও দেশটির সামরিক বাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইলন মাস্ক। নতুন গতিসীমার কারণে ইউক্রেনের কিছু দ্রুতগতির অস্ত্র ও ড্রোনের সঙ্গে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সামরিক অভিযান ব্যাহত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) স্টারলিংক নেটওয়ার্কে ঘণ্টায় ১০০ মাইল (প্রায় ১৬০ কিলোমিটার) গতির সীমা আরোপ করা হয়। ফলে নির্ধারিত গতিসীমার চেয়ে দ্রুতগতিতে চলা অস্ত্র ও ড্রোনগুলো নেটওয়ার্ক থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের আকাশসীমা সুরক্ষা এবং সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ড্রোন পরিচালনার ক্ষেত্রে স্টারলিংক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছিল।
ইলন মাস্ক জানান, সামরিক কাজে ব্যবহৃত ‘স্টারশিল্ড’ সেবার নিয়ন্ত্রণ মূলত মার্কিন সরকারের হাতে। ফলে এ সেবার ব্যবহার ও বিধিনিষেধ নির্ধারণে মার্কিন সরকার এবং সামরিক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রথমে বিষয়টিকে প্রযুক্তিগত সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে দ্রুত সংযোগ পুনরুদ্ধারের অনুরোধ জানান। তবে ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ধারণা, কিয়েভ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে চলমান রাজনৈতিক টানাপোড়েনের সঙ্গে এ সিদ্ধান্তের সম্পর্ক থাকতে পারে।
সম্প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের ধারাবাহিক হামলা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ ছাড়া রাশিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক ডিজেল চুক্তির পর জেলেনস্কি নিজেকে ‘বিশ্বাসঘাতকতার শিকার’ বলে মন্তব্য করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, চলমান উত্তেজনার মধ্যেই লন্ডনে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ও রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন জেলেনস্কি। এ সময় ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়। দেশটি ড্রোন ধ্বংসে সক্ষম ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ ত্বরান্বিত করার এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।



